২ লাখ টাকা জরিমানা গুনল অফিসার্স ক্লাব

বাংলাদেশ

পোড়া তেলে রান্নার অভিযোগে অফিসার্স ক্লাবকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার ও সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল রবিবার অফিসার্স ক্লাবের রান্নাঘরে অভিযান চালিয়ে পোড়া তেলে রান্না করতে দেখে ক্লাবটিকে এ জরিমানা করে।

এদিকে লাইসেন্সবিহীন পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং ওজন ও পরিমাপে কারচুপির অপরাধে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করা হয়। অভিযানে দেখা গেছে, লাইসেন্স ছাড়াই লাচ্ছা সেমাই, চানাচুর  বিক্রয় ও বিতরণ করছিল পল্টনের প্যারা ফুড লিমিটেডে, আদাবরের শরীফ বেকারি ও মোহাম্মদপুর এলাকার শাহি মিঠাই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এবং বিএসটিআইয়ের সহযোগিতায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মহানগরীর আজিমপুর এলাকায় অভিযানকালে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করায় পাঁচ দোকানকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

এ ছাড়া ফলের বাজারে মূল্যতালিকা না টাঙানোর অপরাধে শান্তিনগর ও এর আশপাশের এলাকার ১০টি দোকানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এদিকে ভেজাল ও পচা-বাসি খাবার রাখার দায়ে রাজধানী ফার্মগেটের চার রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করেছেন ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত। রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত প্রতিরোধে রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে ডিএমপি। এরই অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে ফার্মগেটে ডিএমপি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক মালিক রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে সটকে পড়ে।

অভিযানের শুরুতে ইন্দিরা রোডের ‘প্রিন্স রেস্তোরাঁ’ নামের এক রেস্টুরেন্টে গেলে শাটার বন্ধ পাওয়া যায়। পরে দেখা যায় ভেতরে অনেক কাস্টমার রেখেই রেস্টুরেন্টে তালা দেওয়া হয়েছে। পরে রেস্টুরেন্টের লোকজনকে শাটার খুলতে বললে তারা খুলতে রাজি হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তালা ভাঙা হলে ভেতর থেকে অর্ধশতাধিক ক্রেতা বের হয়ে আসে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেওয়া মেট্রোপলিটন এলাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ফার্মগেট এলাকায় বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁর পরিবেশ ঠিক নেই। আমরা চারটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েছি। ময়লা-আবর্জনা, ভেজাল ও পচা-বাসি খাবার পাওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিক্রির আসায় রেস্তোরাঁগুলোতে বাসি খাবার ফ্রিজে রাখা হয়। কাবাবের জন্য যে মাংস রাখা হয়েছিল, তা থেকে গন্ধ বের হচ্ছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফার্মগেটের কস্তুরী ছায়ানীড় চায়নিজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে পচা-বাসী খাবার রাখা পাওয়া যায়। হোটেল নিউ স্টার অ্যান্ড কাবাব রেস্টুরেন্টের ভেতরে পাওয়া যায় পচা মাংস। ইন্দিরা রোডের প্রিন্স রেস্তোরাঁ অ্যান্ড চায়নিজ কর্তৃপক্ষ তাদের লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। সেই সঙ্গে তাদের খাবার তৈরির পরিবেশও ছিল অস্বাস্থ্যকর। একই অবস্থা ইন্দিরা রোডের ফুড ফেয়ার রেস্টুরেন্টেরও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *