১৬ বছর পর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে

বিশ্ব

এর ফলে ১৬ বছর পর প্রথমবার দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে, জানিয়েছে বিবিসি।

বৃহস্পতিবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষকে সাজাপ্রাপ্ত ৫ কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ঠিক করতে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

যে কয়েদিদের দণ্ড কার্যকর হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণ এবং হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, বলেছেন তিনি।

চলতি বছরের ডিসেম্বর ও আগামী বছরের জানুয়ারিতে এদের দণ্ড কার্যকর করা হবে।

“বিচার বিভাগ নিকৃষ্ট সব অপরাধীদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করে। আমরা আইনের শাসনকে উর্ধ্বে তুলে ধরতে চাই,” বলেন বার।

বিবিসি বলছে, ২০০৩ সালে ৫৩ বছর বয়সী লুইস জোনস জুনিয়রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয়ভাবে এ ধরণের সাজা কার্যকরে অলিখিত স্থগিতাদেশ ছিল; বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের নতুন ঘোষণার মাধ্যমে তা প্রত্যাহার হল।

উপসাগরীয় যুদ্ধে অংশ নেওয়া লুইস ১৯ বছর বয়সী সৈন্য ট্রেসি জো ম্যাকব্রাইডকে হত্যা করেছিলেন। ওই অপরাধে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়।

দেড় দশকেরও বেশি সময় বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু করলেও এতে ‘বিস্মিত’ নন ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশনের রবার্ট ডানহাম।

তিনি বলছেন, “প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সর্বোচ্চ সাজার কট্টর সমর্থক; তিনি মাদক বিক্রি এবং রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে যেসব খুনের ঘটনায় পুলিশ জড়িত সেগুলোসহ অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের বহুল ব্যবহারের প্রস্তাব করেছেন। সে কারণে মৃত্যুদণ্ড যে কার্যকর হচ্ছে, তাতে কোনো চমক নেই। এতদিন যে দেরি হয়েছে, সেটিই বরং বেশি চমকের।”

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন কাছাকাছি সময়ের মধ্যে পরপর ৫টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণায় উদ্বেগ জানিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় যে কোনো অপরাধের বিচারই কেন্দ্র কিংবা রাজ্যের আদালতে চলতে পারে।

তবে মুদ্রা জালিয়াতি কিংবা মেইল চুরির সুনির্দিষ্ট কিছু অপরাধের বিচার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কেন্দ্রীয় আদালতের এখতিয়ারে চলে যায়।

১৯৭২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক সিদ্ধান্তে সব মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করে দিলে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান অচল হয়ে পড়ে।

চার বছর পর সুপ্রিম কোর্ট কিছু কিছু রাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনে; পরে ১৯৮৮ সালে তৎকালীন মার্কিন সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ রেখে আইন পাস করে।

এরপর থেকে ২০১৮ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত ৭৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজনের সাজা কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার।

দেশটিতে এখন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কয়েদির সংখ্যা ৬২ বলেও জানিয়েছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *