হাসপাতাল উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী

বাংলাদেশ

জ্বর হলেই মানুষ ছুটছে হাসপাতালে। পরীক্ষা করালে বেশির ভাগই ধরা পড়ছে ডেঙ্গু। যাদের অবস্থা মারাত্মক নয় তাদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাড়িতে। যাদের অবস্থা কিছুটা হলেও জটিল, তাদের পরামর্শ দেওয়া হয় ভর্তির। কিন্তু সেখানেই দেখা দিচ্ছে সমস্যা। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা মেডিসিন বিভাগের আওতায় থাকায় দেখা দিয়েছে বেড সংকট। কারণ হাসপাতালগুলোতে ওই বিভাগের নির্ধারিত বেড ভরে গেছে আগেই। এর মধ্যেই প্রতিদিন প্রতি ঘণ্টায় আসছে ডেঙ্গু রোগী। বেডে জায়গা না হলেও চিকিৎসার স্বার্থে রাখা হচ্ছে মেঝেতে। আবার কোনো কোনো হাসপাতাল থেকে রোগীরা ছুটছে অন্য হাসপাতালে বেডের খোঁজে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আমিনুল ইসলাম ভোরের প্রভাতকে বলেন, ‘পরিস্থিতি আসলেই সামাল দেওয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। হাসপাতালে তো রোগী রাখার জায়গা নেই। বেড বাড়ালেই তো আর হয় না। চিকিৎসা তো দিতে হবে। আমরা এখন সচেতনতায় জোর দিচ্ছি। মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আর সব হাসপাতালের পরিচালকদের বলা হয়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষতার সঙ্গে রোগীর অবস্থা যাচাই করতে। যেসব রোগী বাসায় থেকেই চিকিৎসা নেওয়ার উপযোগী তাদের যেন হাসপাতালে না রাখা হয়।’ তিনি বলেন, ‘সামনে ডেঙ্গুর আরো প্রকোপের ঝুঁকি রয়েছে। এখনই যদি এ অবস্থা হয় তবে তখন পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হয়ে উঠবে।’

ঢাকা শিশু হাসপাতাল : দেড় বছরের সোয়াইবাকে কোলে নিয়ে ছটফট করছেন চাঁদপুর থেকে আসা মা শাহানুর বেগম। কী হয়েছে জানতে চাইলে শিশুর পিঠ থেকে জামা সরিয়ে বললেন, ‘এই যে দেহেন, আমার বাচ্চাটার সারা গায়ে কেমন দাগ অইয়া আছে, জ্বর কমে না। কিছু খাইতে পারে না। খালি কান্দে আর কান্দে। চাঁদপুরের ডাক্তাররা এইহানে পাডাইছে, এইহানের ডাক্তারে ভর্তি দিছে, কিন্তু কাম অইবো কী, সিট তো খালি নাই। এহন কই যাইমু, কী করুম?’

গতকাল দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কথা হয় শাহানুরের সঙ্গে। তাঁর পাশেই চেয়ারে বসা মনি আক্তার তাঁর কোলের শিশুকে দেখিয়ে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটারও ডেঙ্গু জ্বর অইছে, সকালে এইখানে আনছি, ডাক্তার ভর্তি করার কথা বললেও সিট না থাকায় চিকিৎসা হচ্ছে না। অপেক্ষায় আছি যদি কোনোভাবে সিট ম্যানেজ করতে পারি!’

এর মধ্যেই হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে মিরপুর পল্লবী থেকে আসা নুসরাত বেগম তাঁর এক বছর বয়সের শিশুকে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় নিয়ে ঢুকে পড়েন জরুরি বিভাগে। সঙ্গে আসা আক্তার হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হইছে, অবস্থা ভালো না।’ কিন্তু মিনিট দশেকের মধ্যেই নুসরাত বেগম যেভাবে ঢুকেছিলেন সেই ভাবেই হুড়মুড় করে বেরিয়ে যান। জানতে চাইলে বলেন, ‘এইখানে নাকি সিট খালি নাই, কখন খালি অইবো তা-ও ঠিক নাই। আমি আর দেরি করতে চাই না। আরেক হাসপাতালে লইয়া যাই।’ এই সময় ও হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সব চেয়ারেই বিভিন্ন বয়সের শিশুসন্তান কোলে নিয়ে সময় গুনছিলেন মায়েরা, কখন সিট মিলবে!

এমন পরিস্থিতি কেন, জানতে চাইলে ঢাকা শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবু তৈয়ব ভোরের প্রভাতকে বলেন, ‘আমরা তো কোনো রোগীকে ফেরাতে চাই না, কিন্তু উপায় তো পাচ্ছি না। এখানে ভর্তি করে ফেলে রাখলেই তো হবে না, বেড না হলে শিশুগুলোকে রাখব কই, চিকিৎসাই বা কিভাবে দেব? ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমাদের এখানে ৭৫টি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে ডেঙ্গু নিয়ে, আরো শতাধিক শিশুকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল, কিন্তু জায়গা না থাকায় রাখতে পারিনি। আমরা সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি আলাদা করে বাড়তি সাতটি বেড নিয়ে একটি ডেঙ্গু সেল চালু করেছি। এ ছাড়া আইসিইউতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত আশঙ্কাজনক শিশু রোগীদের রাখা হয়েছে। গত এক মাসে আমাদের এখানে দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’

পরে হাসপাতালের ভবনের দোতলায় ডেঙ্গু সেলে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি বেডেই রোগী আছে। এর মধ্যে দুটি শিশু রোগী একই পরিবারের। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার আইরিন তাঁর দেড় বছর বয়সের শিশু নিকিতাকে নিয়ে বসে আছেন একটি বেডে। অল্প দূরে আরেক বেডে আছে তাঁর বড় মেয়ে সিনথিয়া। আইরিন বলেন, ‘প্রথমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ছোটটি, চার দিন ধরে ওকে নিয়ে এখানে পড়ে আছি। এর মধ্যে গতকাল আবার বড়টিকে একইভাবে ডেঙ্গুতে ধরেছে। কী যে অবস্থা চলছে বুঝাতে পারব না। জ্বর একটু কমেছে, কিন্তু কিছু খেতে পারে না।’

পাশেই আরেক শিশু মাইসা ঘুমিয়ে আছে বিছানায়। মা সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘২০ তারিখ থেকে মেয়েটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। পরদিন এখানে নিয়ে এসেছি। এখন একটু ভালো মনে হচ্ছে। তবু ভয় কমছে না।’

উপপরিচালক ডা. আবু তৈয়ব বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক শিশুরই একই সঙ্গে নিউমোনিয়া ও টাইফয়েড দেখা যাচ্ছে। ফলে এসব রোগীর জটিলতা বেশি। তবু আমরা সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্স বলেন ‘আমি আট মাস ধরে এই হাসপাতালে কাজ করছি। এত দিন ছিলাম ক্যান্সার ইউনিটে। এখন দেওয়া হয়েছে নতুন এই ডেঙ্গু সেলে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি শিশুগুলোকে সেবা দেওয়ার। যদিও ডেঙ্গু সেবার জন্য আলাদা কোনো প্রশিক্ষণ এখনো আমি পাইনি, তবে আমাদের একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চলছে বলে শুনেছি। প্রশিক্ষণ পেলে হয়তো আরো ভালো হবে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল : প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় ক্যান্টিনের সামনে করিডরভরা রোগী। আরেকটু সামনে যেতেই একই অবস্থা চোখে পড়ে ভেতরের করিডরেও। সেখানেই রোগী দেখছিলেন তরুণ চিকিত্সক শুভ। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মেডিসিন ওয়ার্ডে সবাইকে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিরুপায় হয়েই আমরা রোগীদের এখানে রাখছি।’

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া ভোরের প্রভাতকে বলেন, ‘এরা যে সবাই ডেঙ্গু রোগী তা নয়, এখানে অন্য রোগীও আছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে ডেঙ্গু রোগীদের। আর ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আলাদা করেই ডেঙ্গু সেল খোলা হয়েছে ২০টি বেড নিয়ে।’

হাসপাতাল ভবনের দোতলায় ডেঙ্গু সেলে গিয়ে দেখা যায়, এক কর্নারে বেডগুলোর বেশির ভাগই ভরদুপুরেও মশারি খাটানো। এর মধ্যেই কোনো কোনো রোগীর স্বজনরা রোগীর মাথায় পানি দিচ্ছে। কারো চলছে স্যালাইন। কেউ বা শুয়ে আছে চুপচাপ। আবার কেউ কথা বলছে টিভি চ্যানেলের ক্যামেরায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর ভিড় দেখা যায় ওই ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়ের মধ্যেই।

ওই ওয়ার্ডে থাকা রোগী জাহিদ ২১ জুলাই রাতে ডেঙ্গু নিয়ে এসে ভর্তি হন এই হাসপাতালে। তিনি বলেন, ‘প্রথমে জ্বর, গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা ও মাথাব্যথা ছিল। পরে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে।’

সঙ্গে থাকা জাহিদের বড় ভাই বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমার ভাইয়ের চিকিৎসায় পাঁচ দিনে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ ফ্রি দেওয়া হলেও বাকি ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরেই করাতে হয়। একটি ইনজেকশন দিতে হয়, যার দাম ৬০ টাকা করে, আবার স্যালাইন দিতে হয় ১২০ টাকা করে। এর সঙ্গে আমাদের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার খরচ আছে।’

সুমন নামের আরেক রোগী বলেন, ‘গাজীপুরে আমি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হই। সেখানে পরীক্ষা করে ধরা পড়ার পড়ে এখানে চলে আসি।’ মিরপুর ১-এর ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি দেলোয়ার হোসেন গত শনিবার এসে ভর্তি হন। তিনি বলেন, ‘২০ দিন ধরে জ্বর চলছে। আগে কাশি ও সর্দি ছিল। এখন জ্বর একবার কমে আবার বাড়ে। ব্যথা আছে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল : টানা আট দিনের জ্বরে একেবারে নেতিয়ে পড়েছে আরিয়ানের ছোট শরীরটা। সাত বছর বয়সী শিশুটির স্যালাইন চলছিল। তার মুখে কোনো কথা ফুটছিল না। পাশে দাঁড়ানো আরিয়ানের মা রানু আক্তারের মুখেও ফুটছিল না কথা। তবু সাংবাদিক শুনে মিনমিন কণ্ঠে বলছিলেন, এত ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে যে বেড পাওয়া গেছে সেটাই ভাগ্যের বিষয়। রানু জানান, চার দিন জ্বরে ভোগার পর আরিয়ানকে ২১ জুলাই এখানে আনার পর ভর্তি করানো হয়। প্রথম দিন ভিআইপি রোগী থাকায় শয্যা পরিবর্তন করতে হয়েছে। এই শয্যায় আনার পর দিন-রাত আরো দুই শিশুকে রাখা হচ্ছে। নাজিমউদ্দিন রোডে আরিয়ানদের বাসা। সে পুরান ঢাকার মুহুরিটুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। মা রানু বলছিলেন, বাসায় নয়, আরিয়ান তার স্কুলেই এডিস মশায় আক্রান্ত হতে পারে।

১৯টি শয্যা ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রতিটি শয্যায় গড়ে তিনজন ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে এক ঘণ্টা অবস্থান করে দেখা গেল, ওই ওয়ার্ডে কোনো শয্যায়ই মশারি টানানো হয়নি। পাশের ২০৭ নম্বর কিংবা ২১০ নম্বর ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছিল একইভাবে। ২০৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুপুর ২টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি করা হয়নি। ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার ভর্তি করা হয়েছিল ২১০ নম্বর ওয়ার্ডে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মেডিক্যাল অফিসার কিশোর কুমার সাহার কক্ষে ভিড় ঠেলে ঢুকে ডেঙ্গু আক্রান্তের পরিস্থিতি কেমন জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি কষ্টে। আমি দুপুর ২টা থেকে দুই ঘণ্টা ধরে চেয়ার থেকে উঠতে পারছি না। আপনি তো নিজেই দেখতে পারছেন।’ তিনি বললেন, ‘জ্বর হওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও রোগী আসছে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও আসছে। কোনো ধরনের পরীক্ষা না করেই এখানে আসছে অনেকে। আমরা সবাইকে ভর্তি করতে পারছি না। আগামীকাল আমাদের এখানে শহীদ ডা. মিলন অডিটরিয়ামে এ বিষয়ে সিম্পোজিয়াম হবে। প্রথমবারের মতো জনসচেতনতার জন্য বুকলেট বিতরণ করা হবে।’

বিএমএর সেমিনার : শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করিডরে ও ওয়ার্ডে থাকা ওই রোগীর ভিড় ঠেলে গতকাল এই হাসপাতালের মিটিং রুমে মিলিত হন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একদল চিকিত্সক। তাঁরা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সেমিনারে অংশ নেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

সরকারি তথ্য : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার গতকাল বিকেলে বলেন, ‘ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির খবর আমাদের কন্ট্রোল রুমে এসেছে। ওই জায়গাগুলোতে গতকাল পর্যন্ত মোট ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির খবর পেয়েছি। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৫৬০ জন, যা নিয়ে চলতি মাসের গত ২৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৪২১ জন। আর চলতি মৌসুমে মোট আক্রান্ত হয়েছে আট হাজার ৫৬৫ জন।’ এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু সাতজন বলে জানান সরকারি কন্ট্রোল রুমের ওই কর্মকর্তা।

এদিকে গতকাল সকালের দিকে রাজধানীর পান্থপথে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সিট খালি নেই লেখা একটি ব্যানার দেখা যায়, যা নিয়ে বিভিন্ন অনলাইনে খবর প্রকাশের পর দুপুরে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটি সরিয়ে নেয়।

রাজশাহী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে রাজশাহী থেকে ভোরের প্রভাতকের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ঢাকার ডেঙ্গু সার দেশে সংক্রামক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজশাহীতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রাজশাহীতে যারা আক্রান্ত তাদের সবাই কোনো না কোনোভাবে ঢাকায় অবস্থানকালে এর শিকার হয়েছেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১০ জন। এদের মধ্যে তিনজন গতকালই ভর্তি হয়েছেন।

গতকাল হাসপাতালের ‘ডেঙ্গু কর্নারে’ গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দুটি রুমে সাতজন ভর্তি আছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা নানা প্রয়োজনে ঢাকায় থাকতেন। কিংবা ঢাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন তিনজন। তাঁরাও ঢাকায় থাকায় এতে আক্রান্ত। একটি শিশু অবশ্য সিরাজগঞ্জে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় বলে তার বাবা জানান।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডাক্তার আলী আকবর খান জানান, ‘এর আগে এখানে চারজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল। তাদের সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এখন যারা ভর্তি আছে, আমরা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছি।’

তিন দিনে ২৪ ডেঙ্গু রোগী খুমেকে ভর্তি

ভোরের প্রভাতের খুলনা প্রতিবেদক জানান, গত তিন দিনে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ২৪ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুধবার থেকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে।

খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, গত কয়েক দিনে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন জেলা থেকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

গাইবান্ধায়ও ডেঙ্গু রোগী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে প্রথমবারের মতো নারীসহ তিন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গাইবান্ধায় এই রোগ বিস্তার লাভ করেনি। আক্রান্তরা জেলার বাইরে থেকে এই রোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহাফুজার রহমান বলেন, রোগীদের মশারির নিচে রাখা হয়েছে। তাদের শরীর অনেকটাই ভালো। দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

‘পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ওষুধ আসছে’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কার্যকর ওষুধ আনতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলা হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে ঢাকার দুই মেয়রকে আরো দায়িত্বশীল হতে বলেছি। ডেঙ্গু মোকাবেলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকার উত্তর এবং দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশনের মেয়য়ের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি।’ মেয়রদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সরকারের কাছে যথেষ্ট ওষুধ রয়েছে। এ প্রকোপও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *