সিসিটিভি ফুটেজে দুই হাতে পিস্তল, বুবলি খুন : অতঃপর একটি বন্দুকযুদ্ধ …

জেলা খবর

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার বজ্রঘোণা মদিনা মসজিদের পাশে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে করে বুবলি আক্তার (২৩) নামের এক নারীকে গুলি করেছে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার রাতে এই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ ঘণ্টা পরই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান বুবলি হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম (৩৫)। রবিবার সকালে বুবলি ও ঘাতক শাহ আলমের মরদহে পাশাপাশি রাখা ছিল মর্গে।

‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বুবলি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে বলে দাবি করেছে। এই সময় বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়েছেন বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নেজাম উদ্দিন, উপ-পরিদর্শক জামাল চৌধুরী, সহকারী উপ-পরিদর্শক বিল্লাল ও মোর্শেদ। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ওসি নিজামের পায়ে ও হাতে স্প্রিন্টারবিদ্ধ হয়েছে। অভিযানের সময় হত্যা মামলার আসামি নুর আলম ও নুবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত বুবলি আক্তারের বাবা নোয়া মিয়া ও বুবলির স্বজনদের ভাষ্যমতে, তাঁর ছেলে রুবেল পেশায় কাঠমিস্ত্রি। রুবেলের কাছ থেকে ইয়াবা সেবনের জন্য টাকা দাবি করত স্থানীয় চাঁদাবাজরা। রুবেল টাকা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এছাড়া রুবেলের নিকটাত্মীয় হাসানের সঙ্গেও সন্ত্রাসীদের বিরোধ ছিল। গত এক বছর  আগে হাসানকে ছুরিকাঘাত করে দুই মাস জেলে ছিল শাহ আলম। গত শনিবারও হাসান-রুবেলের সঙ্গে শাহ আলম ও সঙ্গীদের মধ্যে বিতণ্ডা হয়।

এই বিতণ্ডার জের ধরে রাত পৌনে ৯টার দিকে শাহ আলম তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে রুবেলকে খুঁজতে তার বাড়ি যায়। ওই বাড়িতে আগে থেকেই দাওয়াত খেতে এসেছিল নোয়া মিয়ার বড় মেয়ে বুবলি আক্তার (২৩) ও চুমকি আক্তার (১৯)। নোয়া মিয়ার দুই মেয়ে তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে দাওয়ার খেতে আসার পর রাতে শাহ আলম সঙ্গীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে নোয়া মিয়ার বাড়ির উঠানে আসে। তখন রুবেলকে খুঁজতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। এই সময় বুবলি গালাগাল করার কারণ জানতে চাইলে শাহ আলম আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং এক পর্যায়ে বুবলিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি লাগে বুবলির মুখে। গুরুতর আহত অবস্থায় বুবলিতে স্বজনরা উদ্ধার করে অটোরিকশাযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কতর্ব্যরত চিকিৎসক রাত আনুমানিক ১০টায় মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় বুবলির বাবা নোয়া মিয়া বাকলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী মো. শাহ আলম, নুর আলম, নবী হোসেন, মো. জাবেদ, মো. মুছা, আহম্মদ কবিরসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই বাকলিয়া থানা পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতেই ভিডিও ফুটেজে ধারণ হওয়া দৃশ্য পায় পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, দুই হাতে পিস্তল নিয়ে যাচ্ছে শাহ আলম। এরপর শাহ আলম ও তার ভাই নুর আলমসহ অন্যদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

অভিযানের বিষয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ ভোরের প্রভাতকে বলেন, বুবলি হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি কর্ণফুলী নদীর তীর এলাকায় অবস্থান করছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এতে চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এই সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহ আলমকে পাওয়া যায়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক শাহ আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের কারণ বিষয়ে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নেজাম উদ্দিন ভোরের প্রভাতকে বলেন, নোয়া মিয়ার ছেলে রুবেল ও তাদের নিকটাত্মীয় হাসানের সঙ্গে শাহ আলমসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরোধ ছিল। হাসানকে প্রায় এক বছর আগে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেছিল শাহ আলম। এরপর শাহ আলম কারাগারে গিয়েছিল। কারাগার থেকে বের হয়ে শাহ আলম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তবে এলাকায় কম থাকত। শনিবার দিনে শাহ আলমকে এলাকায় দেখে তাড়া করে হাসান। তখন শাহ আলম পালিয়ে যায়। রাতে শাহ সদলবলে এলাকায় ফিরে হাসানকে খুঁজতে থাকে। এই সময় হাসানকে পায়নি শাহ আলমরা। কিন্তু তারা জানতে পারে রুবেল কৌশলে হাসানকে সরিয়ে দিয়েছে। এই কারণে রুবেলকে মারতে বাড়িতে যায় শাহ আলম। কিন্তু সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার বোন বুবলির মুখে গুলি ছোড়ে শাহ আলম। এতে বুবলি মারা যান।

নিহত বুবলি ছিলেন বলিরহাট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আকরামের স্ত্রী। বুবলি আকরামের সংসারে দুই কন্যা সন্তান আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *