শেরপুরের তিন যুবক জামালপুরে আটক

জেলা খবর
বরগুনা জেলার হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ নামের একটি এনজিওর মাঠকর্মী পরিচয়ে গর্ভবতী নারীদের অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে ৩০০ টাকায় সদস্য সংগ্রহকালে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের খায়েরপাড়া গ্রাম থেকে শেরপুর জেলার তিনজন যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তাদেরকে মেলান্দহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের এবং ওই এনজিও সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে মেলান্দহ থানা পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আটক কথিত ওই এনজিওর মাঠকর্মীরা হলেন- শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার পশ্চিম পড়শপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে মো. ফজল হক (১৯), শ্রীবরদী উপজেলার মো. চান মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ আলম (১৭) এবং শেরপুর সদর উপজেলার কাওয়াপিছি গ্রামের আবু বাক্কারের ছেলে মো. কাউছার (১৮)।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, আটক তিন যুবক বরগুনা জেলার হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ নামের একটি এনজিওর মাঠকর্মী পরিচয়ে তারা গতকাল শনিবার সকালে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের খায়েরপাড়া গ্রামে যান। তারা নিজেদেরকে ওই এনজিওটির ‘গর্ভবতী মহিলা ও শিশুর পুষ্টি কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন প্রকল্পের মাঠকর্মী পরিচয় দেন। তারা গর্ভবতী নারীদের মোটা অংকের টাকার অনুদানের লোভ দেখিয়ে ৩০০ টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ করছিলেন। সদস্য ফরম পূরণ করার সময় এনজিওটি সম্পর্কে তারা কোনো ধারণা না দিতে পারায় এবং অন্য জেলার লোক হওয়ায় স্থানীয়রা তাদেরকে সন্দেহ করেন। একপর্যায়ে তাদেরকে আটক করে স্থানীয় জনতা।
তাদের কাছে থাকা ‘গর্ভবতী মহিলা ও শিশুর পুষ্টির অনুদান ফরম’টিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সনদপ্রাপ্ত হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ নামের এনজিওটি খলিফা ফাউন্ডেশন (কে-এফ) এর আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। এতে এনজিওটির প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা মহিলা কলেজ রোড, বরগুনা-৮৭১০ লেখা আছে। ফরমটিতে একটি ইমেইল ঠিকানা থাকলেও তাতে কোনো ফোন নম্বর উল্লেখ নেই। ২০১২ সালের এনজিও ব্যুরোর সনদপ্রাপ্ত কথিত খলিফা ফাউন্ডেশনের একটি সনদও তাদের কাছে পাওয়া গেছে। খলিফা ফাউন্ডেশনের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার মহেশকাটা বাজার।
ঘোষেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুর রহমান ভোরের প্রভাতকে বলেন, ‘ওই তিন যুবক খায়েরপাড়া গ্রামে গিয়ে গর্ভবতী নারীদের মোটা অংকের টাকার অনুদানের লোভ দেখিয়ে প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ করছিল। কথাবর্তায় সন্দেহ হলে স্থানীয় গ্রামবাসী তাদেরকে আটক করে আমাকে জানান। বেলা ১২টার দিকে ওই গ্রামে গিয়ে দেখি এনজিও কর্মীরা ইতিমধ্যে আটজন গর্ভবতী নারীকে জনপ্রতি ৩০০ টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করেছেন। প্রতারণার বিষয়টি তারা স্বীকার করলে সদস্য ফরম ও এনজিওটির অন্যান্য কাগজপত্রসহ তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ে আসা হয়। মেলান্দহ থানায় জানানো হলে পুলিশ এসে তিনজন নারীর টাকা ফেরৎ দেয়। বাকি পাঁচজন গর্ভবতী নারীর টাকা ও এনজিওর সদস্য ফরমসহ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।’
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম খান ভোরের প্রভাতকে বলেন, ‘ঘোষেরপাড়া থেকে আটক বরগুনা জেলার একটি এনজিওর তিনজন মাঠকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা বেশ কিছু সদস্য ফরম, পরিচয়পত্র, এনজিও ব্যুরোর সনদ যাচাই-বাছাই করছি। হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ নামের এনজিওটি আদৌ ভুয়া কিনা, নাকি আটক যুবকরাই ওই এনজিওর নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছে, এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *