মুচলেকায় আটক পাঁচ হেযবুত কর্মী মুক্ত

জেলা খবর

‘হেযবুত তওহীদ’ নামের একটি বিতর্কিত ইসলামী গ্রুপের নারী-পুরুষের ৫ সদস্য পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়েছে তারা কক্সবাজার জেলায় সংগঠনটির যেকোনো ধরনের কার্যকলাপ চালানো থেকে বিরত থাকবেন। এরকম লিখিত মুচলেকা দিয়েই তারা গতকাল রবিবার কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

শনিবার গভীর রাতে কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ ভবন সংলগ্ন ৩টি ডেরা থেকে পুলিশ সন্দেহভাজন ইসলামী গ্রুপের এই ৫ সদস্যকে আটক করেছিল। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে ‘হেযবুত তওহীদ’ নামের এই সংগঠনটির কর্মীদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।

জানা গেছে, হেযবুত তওহীদ সংগঠনটির বেশ কিছু কর্মী কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে কক্সবাজার পলিটেকনিক কলেজ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেয়। পলিটেকনিক কলেজের কর্মচারী এনামের ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমজাদ হোসেন ও রুবিনা আকতার নামের এক দম্পতি প্রাথমিক কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে তার আশেপাশে আরো কয়েকটি বাসা ভাড়া নিয়ে ডেরা পাতে আরো বেশ কয়েকজন হেযবুত কর্মী। এনামের ভাড়া বাসায় অনেক নারী পুরুষের যাতায়াত ছিল। সেই বাসায় হেযবুত কর্মীরা কংফু-কারাতে প্রশিক্ষণ নিত। প্রশিক্ষণের সময় স্থানীয় লোকজন বর্ষা নামে পরিচিত দেশীয় অস্ত্র দেখতে পেয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে।

হেযবুত কর্মীরা এলাকায় কিছু বই বিতরণ করে। তারা সেলাই কাজ করে এবং সেলাই প্রশিক্ষণও দিত। তাদের কার্যকলাপ সন্দেহজনক মর্মে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খোন্দকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শনিবার মধ্যরাতে হেযবুতের ডেরায় অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশের অভিযানে ৪ জন পুরুষ এবং একজন নারী হেযবুত কর্মী আটক হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ডেরা থেকে লম্বা একটি বর্ষা, কয়েক শ বই উদ্ধার করে। আটক হেযবুত কর্মীরা হচ্ছেন- যথাক্রমে বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি বাইশারীর হাশেমের পুত্র ইদ্রিস খান (৩০), সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গোলাম রব্বানীর পুত্র মোস্তফা জামান (৩৪), ফেনীর ফুলগাজী মনখুলীর নুরুল আলমের পুত্র আমজাদ হোসেন, কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকার ফরিদুল আলমের পুত্র আবু সালেহ ও আমজাদ হোসেনর স্ত্রী পরিচয়ধারী রুবিনা আকতার (২২)।

আটক হেযবুত কর্মীদের দাবি তারা বই বিক্রি ও সেলাই কাজ করে নিজেরা জীবিকা নির্বাহ করে এবং তাদের সংগটনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অথচ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব কর্মীরা বিশ্বাসযোগ্য কোনো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। স্থানীয় লোকজনের চোখে সংগঠনটির এসব কর্মীদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, হিযবুত তাহরীর সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত তালিকাভুক্ত একটি সংগঠন। তবে আটক কর্মীদের সংগঠন হেযবুত তওহীদ হচ্ছে সরকারের কালো তালিকাভুক্ত সংগঠন। তাই পুলিশসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারিতে রয়েছে সংগঠনটি। তবে আটক হেযবুত কর্মীরা কক্সবাজার জেলায় কোনো ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা চালাবে না এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারা কক্সবাজার ত্যাগ করবে মর্মে মুচলেকা দেয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে তদানীন্তন বিএনপি সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার টাঙ্গাইলের ওয়াজেদ আলী খান পন্নী পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ বায়েজীদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদ সংগঠনটি প্রতিষ্টা করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *