মায়ের বাড়া ভাত খাওয়া হলো না রহমতের, এ মৃত্যুর দায় কার?

জেলা খবর

শিক্ষকের কাছে থেকে পড়া শেষ করে বাসায় ফেরে রহমত উল্লাহ (১৫)। ঘরে ঢুকেই মায়ের দেওয়া থালে ভাত রেখে হাত ধুতে যায়। এ সময় প্রতিবেশী একজন রহমতকে ডেকে নেন তার পানির তুলার মর্টারের বিদ্যুৎ সংযোগটি দেখার জন্য। একপর্যায়ে ত্রুটিপূর্ণ সংযোগটি মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রহমত। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের দশঅশিয়া গ্রামে।

নিহত রহমত উল্লাহ ওই গ্রামের রিকশা চালক আলিম উদ্দিনের এক মাত্র ছেলে। স্থানীয় মিতালি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ত। রহমতের বাবা আলিম উদ্দিন জানান, প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার ছেলে স্কুলের প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে। রিকশা চালিয়ে খেয়ে না খেয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছেন। চলতি বছরের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাতেও রহমত সকল বিষয়ে সর্বাধিক নম্বর পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের মতো খুব সকালে ছেলে পাশের একটি কোচিং সেন্টারে পড়তে যায়। সেখান থেকে সকাল নয়টায় বাড়িতে এসেই বই খাতা রেখে ভাত খেতে যাচ্ছিল। এই সময় ফারুখ আহম্মেদ নামে এক প্রতিবেশী নিজের বৈদ্যুতিক মর্টার চালু করতে তার ছেলেকে ডেকে নেন। পরে মর্টারের তার সংযোগের সময় রহমতকে কিছু না বলেই ফারুক আহম্মেদ ঘরের ভিতর থেকে সুইচ অন করে দেন। এই অবস্থায় বিবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ছেলের মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশীরা জানান, এ ঘটনার পরপরই ঘটনাটি মীমাংসা করতে ওঠেপড়ে লাগে প্রবাসী ফারুক আহম্মেদ। তিনি সালিশকারীদের নিয়ে লাখ টাকায় মীমাংসা করে ফেলেন। এ খবর মুহূর্তে প্রচার হয়ে গেলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ করে ফারুক আহম্মেদর বিচার দাবিতে। এক পর্যায়ে ফারুক লাপাত্তা হয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান আঠারবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক জিয়াউর রহমানসহ এক দল পুলিশ। তারা চাপের মুখে পড়ে নিহত স্কুল ছাত্রের লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠান।

আঠারবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোতালেব চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *