মাদারীপুরে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণ, মামলা করায় হত্যার হুমকি

জেলা খবর

মাদারীপুরে বাকপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (১৬) গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। থানায় মামলা করায় ওই কিশোরীর বাবাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বখাটের দল।

পুলিশ, হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের চোকদার ব্রিজ এলাকার বৃহস্পতিবার দুপুরে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী গোসল করার জন্য পাশের নিম্নকুমার নদের দিকে যায়। পথিমধ্যে একই এলাকার করিম চোকদারের ছেলে তন্ময় চোকদার (২২), টুলু চোকদারের ছেলে জিশান চোকদার (১৮) এবং সানু মোল্লার ছেলে হাসান মোল্লা (২১) জোর করে পাশের একটি ঝোপের মধ্যে নিয়ে যায় তাকে। বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী কথা বলতে না পারার সুযোগ নিয়ে তারা গণধর্ষণ করে। কিশোরীর গোসল করতে দেরি দেখে নদের দিকে যেতে থাকেন তার মা। এ সময় ঝোপের মধ্যে শব্দ পেয়ে এগিয়ে গেলে দু‘জন পালিয়ে যায় এবং তন্ময়কে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে সেও পালিয়ে যায়। পরে তিনি মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। রাতে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। সালিশদাররা ঘটনাটি মীমাংসাযোগ্য নয় বলে চলে যান।

এদিকে আজ শুক্রবার সকালে তিন বখাটে ওই কিশোরীর বাবাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

নির্যাতিতার বাবা শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় ধর্ষিতাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে দুপুরে ৩জনকে আসামী করে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

কিশোরীর বাবা বলেন, মামলা করার পর থেকে বখাটেরা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে শাসিয়ে বেড়াচ্ছে। ওরা বলছে, ‘মামলা করে কি করবি, পুলিশকে টাকা দিয়ে মামলা শেষ করে তোকে দেখে নিবো, কীভাবে এলাকায় থাকিস।’ আমি এখন বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। ভয় হয় রাতে ওরা আমার বাড়িতে হামলা না করে।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রতিবন্ধী কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি এবং যথাযথ চিকিৎসা দিয়েছি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় তিন জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন ওই কিশোরীর পিতা। পুলিশ আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *