ভালো খেলতে খেলতে আউট সৌম্য-সাকিব

খেলা

দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের আউট হওয়ার পর তার অভাব বুঝতেই দেননি সৌম্য সরকার এবং সাকিব আল হাসান। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দুজন। তবে আরেকটি অর্ধশত রানের জুটির পরই উইকেট হারাল বাংলাদেশ। শিকারী সেই অ্যাশলে নার্স। তার বলে রোস্টন চেইজের তালুবন্দি হয়ে বিদায় নিয়েছেন দারুণ খেলতে থাকা সাকিব (২৯)। আগের ম্যাচেও তিনি অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছিলেন।

মারকাটারি সৌম্যর সঙ্গে ধীরস্থির তামিম- এমন দৃশ্যই এখন বেশি দেখা যায়। আজও তাই হয়েছিল। ৮ ওভারেই ৫৪ রানের জুটি গড়ে ফেলেছিলেন দুজন। ৯ম ওভারে অ্যাশলে নার্সের বলটি বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন তামিম। বলের লাইনে যেতে পারেননি। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানে স্টাম্পে। ২৩ বলে ২১ রান করা তামিম ফেরার পর ৫৯ বলে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য সরকার। ২০ ওভারেই একশ ছাড়ায় বাংলাদেশ। সাকিবের বিদায়ের পর সৌম্যও টিকতে পারেননি। নার্সের একই ওভারের পঞ্চম বলে ৬৭ বলে ৪ বাউন্ডারি ২ ওভার বাউন্ডারিতে ৫৪ রান করা সৌম্যর ক্যাচ দুই বারের চেষ্টায় তালুবন্দি করেন সুনিল অ্যামব্রিস।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদে পড়ে ক্যারিবীয়রা। তারা ভেবেছিল, একটা বড়সড় স্কোর গড়ে ফেলবে। কিন্তু সেটা আর হলো কই? অধিনায়ক মাশরাফি প্রথম আঘাত হানলেন। দলীয় ৩৬ রানে তার বলে সুনিল অ্যামব্রিস (২৩) সৌম্য সরকারের দর্শনীয় এক ক্যাচে পরিণত হন। ১৯ রানের ব্যবধানে তিন নম্বরে নামা ডোয়াইন ব্র্যাভোকে (৬) লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আরেক ওপেনার শাই হোপকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন রোস্টন চেইজ।

কিন্তু কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ধরা পড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে (১৯)। এরপর আবারও মুস্তাফিজের ম্যাজিক। তার কাটারে কাটা পড়েন জনাথন কার্টার (৩)। এর মাঝেই হাফ সেঞ্চুরি করেন শাই হোপ। তাকে সঙ্গী করে ইনিংস গড়ায় মনযোগ দেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। এই দুজনের জুটি ১০০ স্পর্শ করতেই আঘাত হানেন মাশরাফি। টাইগার ক্যাপ্টেনের বলে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন ১০৮ বলে ৮৭ রান করা শাই হোপ।

ফিরতি ওভারে এসে জেসন হোল্ডারকেও (৬২) প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান ম্যাশ। অ্যালানকে (৭) এলবিডাব্লিউ করে নিজের প্রথম শিকার ধরেন সাকিব। এরপর জোড়া আঘাতে অ্যাশলে নার্স (১৪) এবং রেমন রেইফারকে (৭) ফেরত পাঠান মুস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৭ রান তুলতে সক্ষম হয় উইন্ডিজ। ১০ ওভার বল করে ৬০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন ম্যাশ। আর মুস্তাফিজের বোলিং ফিগার ৯-১-৪৩-৪! ‘হাড়কিপ্টে’ সাকিব ১০ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২৭ রান! ১ মেডেনসহ তার শিকার ১ উইকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *