দেড় শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ

বাংলাদেশ

নদীর তীর দখলমুক্ত করতে চলমান উচ্ছেদ অভিযানের চতুর্থ পর্বের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দিনভর অভিযানে অবমুক্ত করা হয়েছে দেড় একর জায়গা।

রাজধানীর চারপাশ ঘিরে থাকা নদী ও খাল সচল করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) এই অভিযান পরিচালনা করছে।

কেরানীগঞ্জ থানার মান্দাইল গোকুলচর থেকে গতকাল সকালে অভিযান শুরু হয়। এস্কাভেটর নিয়ে বুড়িগঙ্গার দুই তীর ধরে এগিয়ে চলেন উচ্ছেদ-সংশ্লিষ্টরা। নদীর দক্ষিণ তীরে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলে ধারাবাহিকভাবে। দূষণে কালো বর্ণ ধারণ করা নদীর পানিতে তখন ভাসছিল কচুরিপানা, পলিথিনসহ নানা আবর্জনা। উচ্ছেদ অভিযানের পর সেখানে ড্রেজিংসহ আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

গতকালের অভিযানে জিনজিরা ঘাট এলাকায় ভাঙা পড়ে ছোট-বড় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। নদীর সীমানায় এসব অবৈধ স্থাপনার মধ্যে বেশির ভাগই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। উচ্ছেদের নোটিশ পেয়ে মালামালসহ বেশির ভাগ আগেই সটকে পড়ে।

এ ছাড়া অস্থায়ী টিনের ঘর, প্রাচীরসহ যা কিছু নদীর সীমানায় পড়েছে তার সবই উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত থাকায় ভবনসহ ঘর উচ্ছেদে সমস্যা হয়নি তেমন। দুপুরে আধাঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে অভিযান।

বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘উচ্ছেদ কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে চলছে। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) হুজুরপাড়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ অভিমুখে অভিযান চলবে। আশা করা হচ্ছে দুই সপ্তাহের মধ্যে অভিযান কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। এর মাঝে উচ্ছেদ করা অংশ যেন ফের দখল না হয় সেদিকেও নজরদারি চলবে। স্থায়ী সীমানা পিলার স্থাপনের কাজও শুরু হবে এরই মাঝে। ’

সংশ্লিষ্টরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল উচ্ছেদ হয়েছে সর্বমোট ১৫১টি স্থাপনা। ভাঙা পড়েছে তিনটি তিনতলা, আটটি দোতলা, ২৩টি একতলা ও ৬৫টি আধাপাকা ভবন। এ সময় ১৪টি সীমানা দেয়াল ও ৩৮টি টিনের ঘর উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে অবমুক্ত করা হয় এক দশমিক পাঁচ একর তীরভূমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *