বিশ্বসেরার ঘূর্ণিজাদুতে আফগানিস্তান লণ্ডভণ্ড!

খেলা

উইকেট পড়লেও রানের গতি আটকানো যাচ্ছিল না আফগানিস্তানের। অধিনায়ক কাম ওপেনার গুলবাদিন নাইব ব্যাট হাতে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন।
তাকে ফেরাতে সাকিবের শরণাপন্ন হতে হলো বাংলাদেশকে। ৭৫ বলে ৪৭ রান করা আফগান ক্যাপ্টেনকে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব। এক বল পরেই তৃতীয় আঘাত। আফগান ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা মোহাম্মদ নবীকে (০) সরাসরি বোল্ড করে দেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার।

সাকিবের চতুর্থ শিকার আসগর আফগান (২০)। বিশ্বসেরার বলে সীমানার ওপর থেকে ক্যাচ নেন বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমান। ৩৪ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১২৫ রান।

বাংলাদেশের দেওয়া টার্গেট তাড়ায় নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি আফগানদের। দুই ওপেনার গুলবাদিন নাইব আর রহমত শাহ ভালো সামলাচ্ছিলেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণ।

শেষ পর্যন্ত স্পিনেই আসে সাফল্য। ব্যাট হাতে রেকর্ড গড়া সাকিব এসেই ৩৫ বলে ২৪ করা রহমত শাহকে তামিম ইকবালের তালুবন্দি করেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার। ভাঙে ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই গুলবাদিন নাইবের নিশ্চিত রান-আউট মিস হয়ে যাওয়ায় বেজায় চটে গিয়ে বল ছুড়ে মেরেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার করা ওই ওভারের পঞ্চম বলেই এল দ্বিতীয় সাফল্য। তবে এতে বেশিরভাগ কৃতিত্ব মুশফিকুর রহিমের। হাসমতউল্লাহ শহিদিকে (১১) দুর্দান্ত দক্ষতায় স্টাম্পিং করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে উইকেটকিপিং নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মুশি।
এর আগে সাউদাম্পটনের রোজ বোলে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬২ রান তোলে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ওপেনিং করতে নামলেন লিটন দাস। এতদিন প্রথম বলটি সবসময় তামিম খেলতেন; আজ খেললেন লিটন। কিন্তু তাকে ঘিরেই শুরু হলো বিতর্ক। মুজিব-উর-রহমানের বলে শর্ট কাভার থেকে ক্যাচ নেন হাশমতউল্লাহ শহিদি। ফিল্ড আম্পায়ার নিশ্চিত ছিলেন না আউট নিয়ে। তাই ডাকা হয় তৃতীয় আম্পায়ার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি শহিদির হাত ছুয়ে মাটি স্পর্শ করেছে। শেষ পর্যন্ত ‘বেনিফিট অব ডাউট’ আইন না মেনেই লিটনকে (১৬) আউট দেন টিভি আম্পায়ার আলিম দার।
লিটন দাসের বিতর্কিত আউটের পর জুটি বেঁধে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মিশনে ছিলেন তামিম ইকবাল এবং বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দুইজনের জুটিতে এসে গিয়েছিল ৫৯ রান। তখনই ছন্দপতন। মোহাম্মদ নবির বলে বোল্ড হয়ে যান ৫৩ বলে ৩৬ রান করা তামিম ইকবাল। রশিদের বলে সাকিবের বিপক্ষেও এলবিডাব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য করে বাংলাদেশ। মুশফিকের সঙ্গে দারুণ জুটি জমে গিয়েছিল সাকিবের। এরপর চলতি বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব।
৬৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করার পর ৪ বাউন্ডারিতে ৫১ রানেই মুজিব উর রহমানের দ্বিতীয় শিকার হন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার। মুশফিকের সঙ্গী হন সৌম্য সরকার। ভাঙে ৬১ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। পাঁচে নামা সৌম্য সরকার ভুমিকা রাখতে পারেননি। মুজিবের বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন ৩ রানে। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত পাল্টানো যায়নি। ভায়রা ভাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মুশফিক। ৫৬ বলে ক্যারিয়ারের ৩৫তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। জুটিতে ৫৬ রান আসার পর গুলবাদিন নাইবের বলে ২৭ রানে আউট হয়ে যান মাহমুদউল্লাহ।
উইকেটে এসে মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার ব্যাটে ছুটে স্ট্রোকের ফুলঝুরি। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন মুশফিক। ওভারও কমে আসছিল। ৪৯তম ওভারে রান তোলার তাড়া থেকেই দৌলত জারদানকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ নবির তালুবন্দি হন ৮৭ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৮৩ করা মুশফিক। গুলবাদিন নাইবের করা ইনিংসের শেষ বলে বোল্ড হওয়ার আগে মোসাদ্দেক খেলেন ২৪ বলে ৩৫ রানের ক্যামিও ইনিংস। নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৬২ রান। মুজিব উর রহমান নিয়েছেন ৩৯ রানে ৩ উইকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *