প্রধান শিক্ষকের নামে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

জেলা খবর

নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের নামে মামলা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক তরুণের (২৬) নামে মামলা হয়েছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। বরিশালের উজিরপুরে তিনজনের নামে মামলা হয়েছে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে।

এদিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া গৃহপরিচারিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে রাজবাড়ী রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কনস্টেবল খলিলুর রহমানকে। প্রতিনিধিদের খবরে বিস্তারিত :

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে হাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর ভাইয়ের ভাষ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি টিফিনের সময় ওই ছাত্রীকে আইন উদ্দিন নিজের কক্ষে ডেকে পাঠান। এরপর তাকে গোসলখানায় গিয়ে থালা-বাটি ধুয়ে দিতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক সেখানে গিয়ে ওই ছাত্রীকে মারধরের পাশাপাশি ধর্ষণ করেন। সঙ্গে ওই ছাত্রীকে হুমকি দেন, এ ঘটনা কাউকে জানালে হত্যা করা হবে। ভয়ে ওই ছাত্রী প্রথমে বিষয়টি চেপে যায়।

ভুক্তভোগীর ভাই দাবি করেন, রোজার ছুটিতে ওই ছাত্রী এক বোনের বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখানে সে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তখন বিষয়টি নিয়ে অনেকের সন্দেহ হয়। এরপর স্বজনদের কাছে সে ঘটনা খুলে বলে।

এর আগেও এক ছাত্রীকে ওই প্রধান শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে সে তার এক সহপাঠীকে প্রধান শিক্ষককের কক্ষ থেকে বের হতে দেখে। তখন সে সহপাঠীর কাছে ঘটনা জানতে চায়। সহপাঠী জানায়, প্রধান শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০৮ সালে শিক্ষক মোজাম্মেল হক খুনের ঘটনায় যে মামলা হয়েছিল, তাতে আইন উদ্দিনের নামও ছিল। সাবেক ইউপি সদস্য আজিমুদ্দিন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের নামে একাধিক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির কথা শুনেছি।’

বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান মাইনুল হক কাসেম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি এর আগেও একাধিক অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তিনি একটি খুনের মামলারও আসামি। সেটাও মেয়েঘটিত।’

বারহাট্টা সার্কেলের এএসপি মো. সফিউল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। আশা করি প্রধান শিক্ষককে আমরা গ্রেপ্তার করে ফেলব।’

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, মাদরাসা শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে আহমেদ মিশন (২৬) নামের এক তরুণের বিরুদ্ধে। মিশন মুছাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মামলার এজাহার বলা হয়েছে, ওই শিক্ষিকা মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। মিশনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। গত ১১ জুন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি ওই শিক্ষিকাকে ধর্ষণ করেন।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে তিনজনকে আসামি করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, উজিরপুর উপজেলার সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে মাদ্রা গ্রামের বিনোদ শীলের সম্পর্ক ছিল। গত ১৯ মে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিনোদ তাকে ধর্ষণ করে। এতে সহযোগিতা করেন একই গ্রামের অসীম শীল ও তপন শীল।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, গৃহপরিচারিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রাজবাড়ী রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কনস্টেবল খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী গত বুধবার বিকেলে রাজবাড়ী রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যারাকে কাজ করছিলেন ওই গৃহপরিচারিকা। ওই সময় খলিলুর রহমান তাকে যৌন হয়রারি করেন।

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর জানান, মঠবাড়িয়ার মিরুখালীতে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন—সাইফুল জমাদ্দার (২০), শাওন জমাদ্দার (২২) ও নাজমুল হাওলাদার (২১)।

সিলেট অফিস জানায়, ফেঞ্চুগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আর অভিযোগটি উঠেছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *