পোস্তগোলায় বিআইডাব্লিউটিএ’র অভিযানে আজও দখলদারদের বাধা

বাংলাদেশ

ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে কর্মকর্তাদের আবারো বাধা দিয়েছে দখলদাররা। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকায় অভিযান কার্যক্রম পরিচালনার সময় বাধা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে বাধার মুখেও পুলিশি পাহারায় সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। তবে অভিযান শুরুর আগেই স্থানীয় প্রভাবশালী ইব্রাহিম আহমেদ ওরফে রিপন তাঁর কয়েক শ অনুসারীকে নিয়ে শ্মশানঘাট এরাকায় অবস্থান নেন। অভিযান শুরুর পরপরই কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হন তারা। একপর্যায়ে বিআইডাব্লিউটিএ’র নির্বাহী হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দীনসহ অন্তত ছয়জনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তারা। অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। হামলার সময় পুলিশ সদস্যদের নির্লিপ্ত থাকতে দেখা যায়। পরে ওই ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এখন পুলিশি পাহারায় এখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

নির্বাহী হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হচ্ছে। আজ এই অভিযান কার্যক্রমের ৪২ দিন। কোনো দখলদার এমন উদ্ধত আচরণ করেননি। গতকাল ও আজ এমন বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে মূল হোতা পালিয়ে গেছেন। তার সহযোগী তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকায় নদী ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ইব্রাহিম আহমেদ। গতকাল বুধবার বিকেলে বালুর ওই গদি অপসারণ করতে গেলে বিআইডব্লিউটিএ-কে বাধা দেওয়া হয়।

বিআইডাব্লিউটিএ-এর বক্তব্য অনুযায়ী, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট ও এর আশপাশের এলাকায় শুল্ক আদায় ও মালামাল ওঠানামার জন্য স্থানীয় ইকবাল আহমেদকে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। ইকবাল স্থানীয় প্রভাবশালী ইব্রাহিম আহমেদের ছোট ভাই। এর আগেও তার বাধার কারণে সেখানে অভিযান কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *