পরিহাস থামাতে পারবে না রোকেয়া প্রাচী-তারিনদের

জাতীয়

রাজধানী শুধু নয়, ডেঙ্গু-আতঙ্ক এখন দেশজুড়ে। এডিশ মশায় আক্রান্ত, প্রাণহানি বাড়লে আতঙ্কও বেড়েই চলছিল। প্রতিদিন নতুন প্রাণহানির পর মানুষের বুক খাঁ খাঁ করে উঠেছে। এমনি এক অবস্থায় গত শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-বিএফডিসি প্রাঙ্গণে চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে এডিস মশা নিধন কর্মসূচিতে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সচেতনতামূলক এ অভিযান নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, পরিহাস ও সমালোচনায় মেতে উঠেছেন কিছু মানুষ। এই পরিহাসের ফলে ওই কর্মসুচিতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা কষ্ট পেয়েছেন। তবে সমালোচকদের চিন্তার দৈন্যতা থেকে এটি হতে পারে বলে মনে করছেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন অনেকেই।

ডেঙ্গু দমনে যেখানে উদ্বুদ্ধকরণ কাজটির জন্য সাধুবাদ পাবার কথা সেখানে তির্যক সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। এক শ্রেণির লোক এটি করছেন যারা নিজেরাও কাজে নামতে জানেন না। তারা পরিহাস বিলাসী।

গত শুক্রবার ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তাররোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও প্রতীকী মশা নিধন অভিযানের এক পর্যায়ে বিএফডিসির সামনের সড়কে পরিচ্ছন্নতায় তথ্যমন্ত্রী নিজে ঝাড়ু হাতে নেন, পরে মশার ওষুধ ছিটানোর মেশিন হাতে নেন। অন্য শিল্পী-কলাকুশলীরাও ঝাড়ু হাতে কর্মসূচিতে অংশ নেন। ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে ফেসবুকে কেউ কেউ তির্যক মন্তব্য করেন, ব্যঙ্গ করেন।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরাই দাঁড়িয়েছিলেন। অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে এ ধরনের সচেতনতামুলক কর্মসূচিও করার প্রয়োজন রয়েছে। এটা মানুষের সমাজে মানুষের দায়িত্ব।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সমালোচনা হওয়ায় অভিনেত্রী তারিন জাহানও তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দেশের যেকোনো সমস্যায় শিল্পীরা পাশে ছিল। দায়িত্ববোধ থেকে শিল্পীরা মাঠে নামে। শিল্পীরা কিন্তু জনগণ ও সরকারের পাশেই থাকে। প্রতীকী কর্মসূচিতে আমরা ডেঙ্গু সম্পর্কে জানাতে ও মানুষকে সচেতন করতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আমরা ওইদিনও মাঠে নেমেছি। কিন্তু এটা নিয়ে মানুষের এমন মন্তব্য হবে আশা করিনি। আমরা শিল্পীরা কখনো অমানবিক নই, আমাদের মধ্যে মায়াবোধ আছে, দায়িত্ব আছে, বিবেকের তাড়নাও আছে।

বিএফডিসির সামনের পরিষ্কার রাস্তায় এডিস মশা জন্মানোর কারণ নেই জানিয়ে মশা নিধনের যৌক্তিকতা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, যারা সমালোচনা করছেন তারা খবরই রাখেননি যে, মশা নিধন অভিযানটি নিছক প্রতীকী। এভাবে মশা নিধনের প্রতীকী অভিযানের বিষয়টি কেউ কেউ না জেনে-না বুঝে, আর কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সমালোচনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যারা এমন সমালোচনা করছেন তাদের অধিকাংশই সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ ধরনের প্রতীকী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি পুরো নয়াদিল্লি পরিষ্কার করেননি।

রোকেয়া প্রাচী বললেন, আরো অণুপ্রেরণা পাচ্ছি

রোকেয়া প্রাচী তার ফেসবুকে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সারা পৃথিবীতেই প্রতীকী কর্মসূচি পালন করা হয়। সচেতনতার কার্যক্রম নেওয়া হয়।  প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ভাইকেও দেখেছিলাম। আরো অনেক উদাহরণ আছে। ডেঙ্গুর আতংকিত অবস্থায় আমরা শিল্পীরা রাজপথে নেমেছিলাম। কিন্তু কিছু মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সচেতনতার এই কর্মসূচিকে কি করে সমালচনার কর্মসূচিতে পরিণত করা যায় সে চেষ্টায়। যাই হোক, কারো চিন্তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমরা শিল্পীরা খুব বিচলিত না। এসব আমাদের থামাতে পারবে না। শেখ হাসিনার জন্য, দেশের জন্য আমরা বার বার রাজপথে নেমেছি, নামবো। অনেকে বলেছেন (অতি পরিচিত) বেহায়া, ছাগল, বুদ্ধিহীন, তাদের বলছি সত্যি তাই, দেশের প্রশ্নে এত হিসাব করি না তো। আবেগ দিয়ে রাজপথে নেমে যাই। সামাজিক সচেতনতার বিষয়সহ, যুদ্ধপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতেও তাই রাজপথেই থাকি।  ঘরে বসে নিরাপদ থেকে অনেক কিছু বলার যে বুদ্ধি সে যেন আল্লাহ্ আমাকে আমাদের কোনো দিন না দেন ,আপনারা পাশে থাকবেন, আপনাদের সমালোচনার ট্রল আমাদের অনুপ্রানিত করবে আরো অনেক বেশি।

আমরা থেমে থাকব না : তারিন জাহান

অভিনেত্রী তারিন জাহান গণমাধ্যমে বলেছেন, আমরা সবাইকে সচেতন করতে মাঠে নেমেছি। ওদিনের কর্মসূচিতে ঝাড়ু দেওয়া বা মশার ওষুধ দেওয়াই কিন্তু মূল বিষয় ছিল না। মূল লক্ষ্য, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। নিজেদের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এটা শুধুমাত্র যে সরকার ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব তা কিন্তু না। নাগরিক হিসেবে এটা আমাদেরও দায়িত্ব। ওই দিনের কর্মসূচিতে কিন্তু আমরা সে কথাই বলেছি। এই ঝাড়ু দেওয়া কিন্তু নতুন কিছু না। এর আগেও কিন্তু আমাদের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ঝাড়ু দিয়েছিলেন। ভারতেও কিন্তু নরেন্দ্র মোদি হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে পরিষ্কার রাস্তায় ঝাড়ু দিয়েছে। এটা কিন্তু প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তারিনের মতে, ট্রল করা কিছু কিছু মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আপনি যত ভালো কাজই করুন না কেন, তারা সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্য করবেই। এটা তাদের কাজ। তাদের কথায় আমরা থেমে থাকবো না। দেশকে রক্ষা করতে ও দেশের মানুষকে সচেতন করতে আমরা কাজ করে যাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *