ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই তরুণীকে অটোরিকশায় তোলা হয়

জেলা খবর

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গার্মেন্টসকর্মীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার চাতরি চৌমুহনি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হল আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে অটোরিকশা চালক মো. মামুন (১৮) ও পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ছনহরা গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে হেলাল উদ্দিন (২৮)। শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট জয়ন্ত্রী রানী সাহার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এতে দুজনই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আরো দুজনের নাম প্রকাশ করেছে। ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সেটাও স্বীকার করেছে তারা।

দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ। শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত আরো দুই আসামির নাম প্রকাশ করেছে। এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ধৃত আসামি মামুন ও হেলাল এবং পলাতক আসামি নূর ও শহীদ চারজন একই দলের। তারা সুযোগ বুঝে গার্মেন্টসকর্মীদের গাড়িতে তোলে। ঘটনার দিন গত বুধবার (৩ জুলাই) রাতে আনোয়ারা উপজেলার চাতরি চৌমুহনি এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে ধর্ষকের দল অপেক্ষায় ছিল। এই সময় চন্দনাইশ উপজেলার বরকল যাবে কি না অটোরিকশা চালক মামুনের কাছে জানতে চান গার্মেন্টসকর্মী ওই তরুণী। তখনই একা গার্মেন্টসকর্মীকে পেয়ে বরকল যাবে বলে জানায় মামুন। এরপর ৩০ টাকা ভাড়ায় তরুণীকে অটোরিকশায় তোলে।

তরুণীকে অটোরিকশায় তোলার পর কিছু দূর গিয়ে অটোরিকশা চায়না শিল্পজোনে যাওয়ার সড়কে নিয়ে যায়। এই সময় তরুণীর মুখ চেপে ধরে তারা। শেষে সড়কের ব্রিকসলিং অংশের শেষ প্রান্তে নিয়ে রাত আটটার দিকে তরুণীকে জোরপূর্বক অটোরিকশা থেকে নামিয়ে কিছুটা সমতল জায়গায় নেয়। সেখানেই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পলাতক আসামি নুর ও শহীদ। পরে তরুণীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে ধৃত আসামি হেলাল ও মামুন।

অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ আরো বলেন, দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হল। তারা ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে দেখিয়েছে। অতীতে আরো ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত দুই আসামি অতীতের ঘটনা স্বীকার করেনি। অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার সম্ভব হলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *