ডেঙ্গু: ইসলামী ব্যাংক, গ্রিন লাইফ ও সেন্ট্রাল হাসপাতালকে জরিমানা

বাংলাদেশ

বুধবার রাজধানীর পল্টনে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপরদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে শুনানিতে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গ্রিন লাইফ হাসপাতাল, সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও ধানমন্ডি ক্লিনিককে ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অভিযান চালানোর সময় ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসা রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

“সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া এবং অস্ত্রোপচার কক্ষে মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক পাওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।”

ঢাকায় ব্যাপক হারে মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় গত রোববার এর পরীক্ষা ডেঙ্গু এনএস১-এর ফি ৫০০ টাকা বেঁধে দেয় সরকার। এর আগে ঢাকার অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে এই টেস্টের জন্য ১০০০-১২৫০ বা তার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হত।

সরকারের ওই নির্দেশ অমান্য করে বাড়তি অর্থ নেওয়ায় সোমবার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পরদিন একই অপরাধে ল্যাবএইড ও ইবনে সিনা হাসপাতালকে জরিমানা করা হয়।

মঙ্গলবারই ধানমণ্ডি এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযানে বাড়তি অর্থ নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ায় গ্রিন লাইফ ও সেন্ট্রাল হাসপাতাল এবং ধানমণ্ডি ক্লিনিককে তলব করা হয়।

বুধবার ওই বিষয়ে শুনানির পর এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হয় বলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ধানমন্ডির গ্রিন লাইফ হাসপাতাল, সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও ধানমন্ডি ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগীর কয়েকটি রক্ত পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে বেশি আদায় করা হচ্ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।”

এদিকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ল্যাব পরীক্ষার উপাদানগুলো নিয়ে যাতে কোনো কারসাজি বা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা না হয় সেজন্য পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় তদারকি করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সংস্থাটির কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, অভিযানে বাঁধন ক্লিনিক, আল আরাফাহ হাসপাতালকে ডেঙ্গু টেস্টের অধিক খরচ রাখায় ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি ওষুধ বিক্রির জন্য তিনটি ফার্মেসিকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে চলমান সঙ্কটে যাতে ওষুধ নিয়ে কোনো কারসাজি সৃষ্টি না হয় সেজন্য বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশেন, মার্কেটের সভাপতি ও সেক্রেটরির সঙ্গে বৈঠক করেছি। ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই এবং সঙ্কট হবে না বলে তারা জানিয়েছেন।”

জরিমানার বিষয়ে জানতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ফোন করা হলে ইউসুফ নামে একজন বলেন, এ বিষয়ে হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. মোজাম্মেল হক বলতে পারবেন। কিন্তু তিনি চলে গেছেন।

ডা. মোজাম্মেলের ফোন নম্বর চাইলে ইউসুফ বলেন, “তার মোবাইল নম্বর দেওয়া নিষেধ।”

পরে তিনি সংযোগটি হাসপাতালের অভ্যর্থনায় দিলে সেখানে দায়িত্বরত শরীফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। হিসাব শাখার আসাদুর রহমানকে ধরিয়ে দেন তিনি। আসাদ বলেন, তার কাছেও এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *