জামিন আবেদন বাতিলের পর কর্মসূচি দেয়নি জোট সঙ্গীরা

রাজনীতি

সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির প্রধান দুই সঙ্গী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট। রাজপথের আন্দোলনে সব সময়ই জোট দুটির সক্রিয় অংশগ্রহণ চেয়েছে তারা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও এর কর্মপরিকল্পনা এখনো অনেকটাই অগোছাল। আবার ২০ দলীয় জোটভুক্ত অন্য দলগুলোও নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে অনেকটা নির্জীব। এর প্রভাব পড়ছে রাজপথের আন্দোলন-কর্মসূচিতে।

দুই জোটেরই প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন হাইকোর্টের আপিল বিভাগে বাতিল হওয়ার পর তাঁর কারামুক্তির দাবিতে জোটভুক্ত কোনো কর্মসূচি নেই। এমনকি দলগুলো এই দাবিতে জোরালো একটি বিবৃতিও দিতে পারেনি। বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি দল বিবৃতি দিয়ে দায় সেরেছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে বিএনপি অনেকটাই একা।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডামের মুক্তির দাবিতে গত রবিবার আমাদের কর্মসূচি ছিল। চলতি মাসেই ধাপে ধাপে আরো কর্মসূচি আসবে। দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের কর্মসূচি দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রগ্রাম ও সাংগঠনিক কার্যক্রম করছি। অন্য দলগুলো নিজ নিজ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রয়োজন হলে তখন ঐক্যফ্রন্ট বা জোটের বৈঠক ডাকা হবে। তারা কী ধরনের কর্মসূচি দেবে সেটা তাদের বিষয়। আর এসব দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে কর্মসূচি দিলেও তা জোরালো না হওয়ায় দৃশ্যমান হচ্ছে না বলে মনে হয়।’

তবে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে খালেদা জিয়ার আপিল বাতিল হওয়ার পর তাঁরা একটি বিবৃতিও দেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা দিশাহারা অবস্থার মধ্যে আছি। খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ায় আমরা আশাহত হয়েছি। কোনো বিবৃতিও দিইনি। তবে বিএনপি তাদের কর্মসূচি করছে। শিগগিরই ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বসব। তাঁদের সঙ্গে বসে আমরাও কর্মসূচি দেব।’

সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি ছাড়া রয়েছে গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য। এই তিন দলের দুটিতেই ছোটখাটো সমস্যা লেগে আছে দীর্ঘদিন ধরে। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন কয়েক মাস আগে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে বাদ দিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করেন। নতুন সাধারণ সম্পাদক এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির একটিও বৈঠক ডাকতে পারেননি। দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ কয়েক নেতা মিলে একটি গ্রুপ নিয়ে চলেন। আ স ম রবের জেএসডিতেও ভাঙন ধরেছে। এরই মধ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনের নেতৃত্বে আলাদা কনভেনশন ডাকা হয়েছে। মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যে নেতৃত্বের সমস্যা না থাকলেও বড় কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। এই অবস্থায় কেউ ফ্রন্টের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন না। বিএনপির পক্ষ থেকেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন—এমনটা জানা যায়নি।

ফ্রন্টের সমন্বয় কমিটিতে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলের বেশ কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা ব্যস্ত আছি। তা ছাড়া আমরাই সব সময় এগিয়ে আসব? ফ্রন্টে থাকা অন্য দলগুলোরও তো তাগিদ থাকা দরকার।’

এদিকে ২০ দলীয় জোটের কার্যকারিতা দিনে দিনে শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে। জোটের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে ১০ অক্টোবর। অথচ জোট নেতাদের সিদ্ধান্ত ছিল মাসে অন্তত একটি বৈঠক করার। সূত্রগুলো বলছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিমঞ্চকে কেন্দ্র করে অলি আহমদের এলডিপিকে আপাতত সাইডলাইনে রাখছে বিএনপি। অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, এনপিপি, ন্যাপ ভাসানী, ইসলামী ঐক্যজোট, জাগপা, এনডিপি, মুসলিম লীগ, জাতীয় দল, ডিএল, কল্যাণ পার্টি, ইসলামিক পার্টিসহ কোনো দলই খালেদা জিয়ার জামিন বাতিলের পর আলাদাভাবে কর্মসূচি দেয়নি। জোটে থাকা লেবার পার্টি একটি বিবৃতি দিয়ে দায় সেরেছে।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ভোরের প্রভাতকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বাতিলের পর আমরা কোনো বিবৃতি বা কর্মসূচি পালন করিনি। তবে আজ (গত মঙ্গলবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এলডিপির এক অনুষ্ঠানে আমি, মাহমুদুর রহমান মান্না ও রেদোয়ান আহমেদ (এলডিপির একাংশের মহাসচিব) খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বক্তব্য দিয়েছি।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আদালত খালেদা জিয়াকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেছেন। অথচ আমরা কর্মসূচি দিতে পারছি না। জোটে সরকারের দালালচক্র সক্রিয় থাকায় আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *