জনভোগান্তির আরেক নাম আর এম ট্রান্সপোর্ট

জেলা খবর

ডিজিটাল নম্বরপ্লেট, রুট পারমিট ও নিবন্ধনবিহীন ২১ সিটের আর এম ট্রান্সপোর্ট হাইওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে আবারো চলতে শুরু করে। দীর্ঘ দিন যাবৎ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত অবৈধভাবে যাত্রীবাহী মিনিবাস চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত বিগত কয়েক মাস ধরে ২১ সিটের আর এম ট্রান্সপোর্ট নামের ২৬টি মিনিবাস এ রুটের গজারিয়ার পাখির মোড়, দড়ি বাউশিয়া, ভবেরচর, ভাটেরচর, বালুয়াকান্দি ও জামালদী বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম এ মহাসড়কের ওপর দিয়ে নম্বরপ্লেটবিহীন, রুট পারমিট ছাড়া যাত্রীবাহী বাসে চলাচলরত যাত্রী, পরিবহন সেক্টর নাগরিক কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের একটি অংশ মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিনজনকে জরিমানা ও একজনকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। হাইওয়ে সড়কে অবৈধভাবে চলাচলরত ২৪টি গাড়ির মধ্যে তিনটি গাড়ি জব্দ করেছেন। পরে গাড়ি তিনটি সোনারগাঁ থানা হেফাজতে রাখেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের এক ঘণ্টা পরেই আবারো হাইওয়ে পুলিশের সামনে দিয়েই গাড়িগুলো চলতে থাকে।

এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী সাইদুল জানান, অবৈধ গাড়ি হলেও ভাড়া অনেক বেশি। বিপদে পড়ে আমরা বাধ্য হয়ে গাড়িতে উঠি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো এত ব্যস্ত সড়কে ডিজিটাল নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি চার মাস ধরে কিভাবে চলাচল করছে।

এখানের হাইওয়ে পুলিশ কি কাঠের চশমা ব্যবহার করে। এত বড় অনিয়মের সঙ্গে প্রশাসনের যে সব কর্মকর্তারা জড়িত হয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি জানাই।

আর এম ট্রান্সপোর্টের পরিচালক রাসেল মিয়া জানান, নম্বরপ্লেটের জন্য আমরা আবেদন করেছি। বিআরটিএ থেকে অনুমোদন দেওয়া হলে নম্বরপ্লেট ও নিবন্ধনসহ সরকারের যথাযথ সব নিয়ম মেনেই গাড়ি চালাব। পরিবহন সংকটের কারণে পুলিশ আমাদের একটু ছাড় দিয়েছে।

দীর্ঘদিন যাবৎ চলাচলরত আর এম ট্রান্সপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম আলী সর্দার জানান, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়টি জেনে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, একদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কি এগুলো বন্ধ করা যাবে। প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। তা ছাড়া সব গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলে কোনো লোকাল গাড়িই রাস্তায় থাকবে না। পরিবহনগুলো সোনারগাঁ এলাকা দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো রুট পারমিট নেই এ কথা সত্য। নম্বরপ্লেট ছাড়া সব গাড়ি চলাচল করছে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। অবৈধভাবে তাদের আর চলতে দেওয়া হবে না।

হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম ক জানান, অবৈধ কোনো যানবাহন মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। এর সাথে হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, ব্যস্ততম মহাসড়কে দীর্ঘ কয়েক মাস যাবৎ রুট পারমিট ছাড়া এতগুলো গাড়ি কিভাবে চলে? ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পর কিভাবে গাড়ি চলে, হাইওয়ে রোডের বিষয় দেখভাল করার জন্য হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্বে আছে। এ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে উপস্থাপন করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *