চুড়ান্ত ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথে আক্কেলপুরের ট্রেনযাত্রীরা

জেলা খবর

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেল ষ্টেশনে গত দুই দিন থেকে ঈদ পরবর্তী ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচেয়ে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। আর এই সুযোগে ষ্টেশনে আগত ঢাকাগামী বেশীরভাগ যাত্রীরা বিনা টিকেটে মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মই ছাদে উঠে ঢাকার উদ্দেশে চলে যাচ্ছেন। এতে মোটা অংকের লোকসানে পড়ছে রেল। ষ্টেশন থেকে আক্কেলপুর উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছি-এই দুই উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক লোকজন ট্রেনে ঢাকায় চলাচল করে থাকে।

আক্কেলপুর রেল ষ্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত নিলসাগর এক্সপ্রেক্স এবং ঢাকা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত একতা এক্সপ্রেক্স ও দ্রুতযান এক্সপ্রেক্স ট্রেনের যাত্রা বিরতির জন্য আক্কেলপুর ষ্টেশনে স্টপেজ রয়েছে। এই তিন ট্রেনের মধ্যে নিলসাগর এক্সপ্রেক্স ট্রেনে ঢাকার জন্য ৪০টি, একতা এক্সপ্রেক্স ট্রেনে ২৫টি এবং দ্রুতযান এক্সপ্রেক্স ট্রেনে ২৫টি সিটের বরাদ্দ আক্কেলপুর ষ্টেশনের জন্য রয়েছে। এই তিন ট্রেনে ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন সিট সহ টিকেট বিক্রি হতো ১২০ থেকে ১৫০টি। ঈদের আগে গত ৮ আগস্ট তিন ট্রেনে সিটসহ টিকেট বিক্রি হয়েছিল ১২৬টি। এর মধ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেক্স ট্রেনে ৪০টি, একতা এক্সপ্রেক্স ট্রেনে ৪০টি এবং দ্রুতযান এক্সপ্রেক্স ট্রেনে ৪৬টি। আর ঈদ পরবর্তী সময়ে ষ্টেশনে উপচেয়ে পড়া ভিড় থাকলেও এখানে গতকাল শুক্রবার(১৬ আগস্ট) নীল সাগর এক্সপ্রেক্স ট্রেনে ৪০টি সিটসহ ৩টি অতিরিক্ত সিট ছাড়া বিক্রি হয় টিকেট। একতা এক্সপ্রেক্স ট্রেনের আসন সংখ্যা ২৫, এর মধ্যে ২৫টি সিটসহ অতিরিক্ত সিট ছাড়া ১৫টি টিকেট বিক্রি হয়। এই দুটি ট্রেন রাতের বেলা চলাচল করে। আর দিনের বেলা দ্রুতযান এক্সপ্রেক্স ট্রেনের আসন সংখ্যা ২৫টি, সেখানে ১০১টি অতিরিক্ত ছিট ছাড়া টিকেট বিক্রি হয়েছে। এই ট্রেনটি দিনের বেলা চলাচল করে। তবে ঢাকাগামী যাত্রীদের অভিযোগ ষ্টেশনে আসন সংখ্যা কম থাকা এবং ট্রেনে টাকা দিয়ে টিকেট কেটে দাড়িয়ে থাকার চেয়ে টাকা ছাড়া দাড়িয়ে যাওয়া অনেক ভাল।

সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবারে ষ্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির জন্য আজ সকাল ৯টা থেকেই অনেকেই ষ্টেশনে আসেন ঢাকায় যাওয়ার জন্য। সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ষ্টেশনের যাত্রী ছাউনি পরিপূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর হতে হতে পুরো ষ্টেশন ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যাত্রীতে ভরে যায়। তবে ঢাকাগামী যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশী। ষ্টেশনের উত্তর পাশ থেকে দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত প্রায় ১৫-২০টি মই নিয়ে দাড়িয়ে আছে স্থানীয় লোকজন। তারা ঢাকাগামী যাত্রীদের ১০ থেকে ২০ টাকা করে নিয়ে ছাদে উঠিয়ে দিচ্ছেন। যারা ছাদে উঠছেন তাদের বেশীরভাগিই টিকেটবিহিন যাত্রী। ছাদে নারী-পুরুষ উভয়েই উঠছেন নিজ কর্মস্থল ঢাকায় যাওয়ার জন্য।

স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ষ্টেশনে বগুড়া জেলার দূপচাঁচিয়া, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল এবং নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার লোকজন এসে থাকেন। বিশেষ করে দুই ঈদে সবচেয়ে বেশী লোকসংখ্যা থাকে। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিরা বিনা টিকেটের যাত্রীদের মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকার বিনিময়ে ঢাকাগামী ট্রেনে ছাঁদে উঠিয়ে দিচ্ছেন। এখানে ষ্টেশন মাষ্টারের প্রশাসনিক কোনো তৎপরতা না থাকায় এই সুযোগ উভয়েই নিয়ে থাকেন।

হাস্তাবসন্তপুর গ্রামের ঢাকাগামী যাত্রী শাপলা আক্তার বলেন, ট্রেনের মধ্যে যে ভিড় তাতে টিকেট কেটে কোনো লাভ নেই। তার কারণ সব টিকেট আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই বিনা টিকেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১০ টাকা দিয়ে মই দিয়ে ছাঁদে উঠে নিজ কর্মস্থল ঢাকায় যাচ্ছি।

উত্তর রোয়াইর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ষ্টেশনে আজ অনেক লোক ছিল ঢাকায় যাওয়ার জন্য। আমি লাইনে দাড়িয়ে টিকেট কেটে ট্রেনে উঠতে পারলাম না। ষ্টেশনে টিকেট চেক করার যদি লোক থাকতো তাহলে সবাই টিকেট কাটত। যারা টিকেট কাটেনি তারা ঠিকই ট্রেনে উঠে চলে গেল।

এদিকে নাম না প্রকাশ করার সর্তে আক্কেলপুর রেল ষ্টেশনের ওপরে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ঢাকাগামী যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই ট্রেনের টিকেট কাটে না।

তবে বিনা টিকেটে ট্রেন ভ্রমণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আক্কেলপুর রেল ষ্টেশনের সহকারী ষ্টেশন মাষ্টার। তিনি   কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের ষ্টেশনে ট্রেনের টিকেটের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেশী। যে সকল যাত্রীরা ঢাকায় গিয়েছেন তারা সকলেই টিকেট কেটেই গেছেন। ট্রেনের ছাঁদে মই দিয়ে উঠা বা ছাঁদে ভ্রমন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যেহেতু ঈদের মৌসুম সব ষ্টেশন থেকেই মই দিয়ে ট্রেনের ছাঁদে লোকজন উঠে ঢাকায় যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *