ক্রিসেন্ট জালিয়াতিতে অডিট ফার্মকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

অর্থনীতি

ভুয়া রপ্তানি বিলে একটি ব্যাংক থেকে সরকারি নগদ সহায়তার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে চামড়া খাতের প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট গ্রুপ। সেই বিল সঠিক বলে সনদ দেওয়া নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইফুল শামসুল আলম অ্যান্ড কোং এবং আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী নামে দুই অডিট ফার্ম।
এর মধ্যে সাইফুল শামসুল আলম অ্যান্ড কোংয়ের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নোটিশে আগামী দুই বছর সব ধরনের নিরীক্ষা কার্যক্রম থেকে ফার্মটিকে কেন বিরত রাখা হবে না তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ক্রিসেন্ট জালিয়াতিতে অডিট ফার্মের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা জানতে চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে গত সপ্তাহে চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। তাদের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে মেসার্স সাইফুল শামসুল আলম অ্যান্ড কোংকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাল বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে ক্রিসেন্ট গ্রুপ, নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নগদ সহায়তা ও ঋণের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য বের হয়ে আসে।

দুই নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাইফুল সামসুল আলম অ্যান্ড কোংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একজন উপমহাব্যবস্থাপককে প্রধান করে গঠিত কমিটির রিপোর্টে অডিট ফার্মের ব্যর্থতার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

ব্যাংক কম্পানি আইনের আলোকে কোনো অডিট ফার্ম ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। আইনের ৩৯(খ) ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংক নিয়োজিত নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানকে দুই বছরের জন্য নিরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে।

জানা যায়, ব্যাংকের বার্ষিক হিসাব বিবরণী সত্যায়নের পাশাপাশি নগদ সহায়তা ছাড়ের আগে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের সনদ নিতে হয়। ক্রিসেন্টের প্রতিটি বিল সঠিক বলে সনদ দেয় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান। এভাবে ভুয়া রপ্তানির বিপরীতে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ক্রিসেন্ট গ্রুপ এক হাজার ১১৬ কোটি টাকা নগদ সহায়তা নিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নেওয়া ৪০৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ভুয়া রপ্তানির বিপরীতে ক্রিসেন্ট গ্রুপ শুধু নগদ সহায়তা নয়, বিপুল অঙ্কের ঋণও নিয়েছে।

বর্তমানে ক্রিসেন্ট গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কাছে ওই ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। পাওনা আদায়ে ক্রিসেন্টের সম্পত্তির নিলাম ডেকেও সম্পদ বিক্রি করতে পারেনি ব্যাংকটি। ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রধান এম এ কাদের বর্তমানে জেলে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *