কেরানীগঞ্জে বিশেষ আদালতের যাত্রা, খালেদাকে হাজির করা হয়নি

বাংলাদেশ

কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় ১৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পেছানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৩ এ এই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল।
কিন্তু খালেদা জিয়াকে হাজির না করায় বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৮ জুন নতুন তারিখ ধার্য করেন।

গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। এখনও তিনি হাসপাতালে আছেন। জিয়া ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুই মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত।

আজ গ্যাটকো মামলার কার্যক্রমের শুনানির মধ্য দিয়ে কেরানীগঞ্জের বিশেষ আদালতের কার্যক্রম শুরু হলো। গত ১২ মে (রবিবার) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের দুই নম্বর ভবনকে বিশেষ আদালত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৭ মামলার বিচার নিরাপত্তার স্বার্থে ওই বিশেষ আদালতে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

আজ সকালেই বিচারক ও সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী কেরানীগঞ্জের বিশেষ আদালতে উপস্থিত হন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও হাজির হন। হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে স্থানান্তর করা হবে বলে জানা গেছে। এরপরই গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলাসহ ১৭ মামলার কার্যক্রম নিয়মিত চলবে ওই আদালতে।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো কেলেঙ্কারির এ মামলা করেন। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেন।

মামলার ২৪ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও এম কে আনোয়ার মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *