করোনা মোকাবেলায় তামাকজাত দ্রব্যে ৩ শতাংশ সারচার্জের দাবি

বাণিজ্য

করোনা মোকাবেলায় তামাকজাত দ্রব্যের ওপর অতিরিক্ত তিন শতাংশ সারচার্জ আরোপ করার দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরা। তারা সারচার্জসহ তামাকে কর বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ মঞ্চ আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেট: জনস্বাস্থ্য ও তামাক কর, রাজস্ব বৃদ্ধি ও আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এ মত প্রকাশ করেন সংসদ সদস্যরা।

আজ সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ মঞ্চের সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অংশ নেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, ওয়াসিকা আয়শা খান, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আশেক উল্লাহ রফিক, খাদিজাতুল আনোয়ার, অধ্যাপক মাসুদা এম. রশীদ চৌধুরী ও অপরাজিতা হক এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক।

ওয়েবিনারের শুরুতে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধে তামাক-কর ও মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রস্তাবে বলা হয়, তামাক ব্যবহার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই তামাকজাত দ্রব্যের ওপর অতিরিক্ত তিন শতাংশ সারচার্জ আরোপ করে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া সিগারেটের চারটি মূল্যস্তরের পরিবর্তে দুটি মূল্যস্তর ও সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যে সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জিত হবে। যা করোনা মহামারি মোকাবেলায় ব্যয় করা যেতে পারে।

এই আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশে তামাক ব্যবহার কমলেও প্রায় চার কোটি লোক তামাক ব্যবহার করে। সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চেয়ে বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। তাই তামাকজাত দ্রব্যের কর বাড়াতে হবে। আর কর বাড়ালে অনেকে উচ্চ মূল্যস্তরের পরিবর্তে নিম্ন মূল্যস্তরের সিগারেট ব্যবহার শুরু করেন। এজন্য সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে দুটি করা যেতে পারে। তামাক থেকে আয় হওয়া রাজস্বের একটি অংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার প্রস্তাব করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা তামাক-কর বৃদ্ধির প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে বলেন, কৃষকদের তামাক চাষের পরিবর্তে অন্যান্য খাদ্যশস্য-অর্থকরী ফসল চাষে উৎসাহ ও প্রণোদনা দিতে হবে। তামাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের পুনর্বাসন করতে হবে। এই খাতে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। তামাকের ক্ষতিকর বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য কার্যকর তামাকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *