এবার ট্রেনের টয়লেটে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

বাংলাদেশ

দেশের কয়েকটি এলাকায় চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এবার পাবনার ঈশ্বরদীতে চলন্ত ট্রেনের টয়লেটে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘আন্ত নগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনযাত্রীরা ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত যুবককে পিটুনির পর পুলিশে দিয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিশুর (১২) বিরুদ্ধে। ঢাকার সাভারে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার হয়েছে। ভোরের প্রভাতের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত :

ঈশ্বরদী : ধর্ষণে অভিযুক্ত ট্রেনযাত্রী মমিনুল ইসলাম (২৬) চাঁপাইনবাবগঞ্জের থানাতলা গ্রামের আব্দুর ফিলিসের ছেলে এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নির্যাতিত ছাত্রীর খালা। মামলার এজাহার মতে, সিরাজগঞ্জের ছাত্রীটি রাজশাহীতে একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে তার খালার সঙ্গে রাজশাহী যেতে সিরাজগঞ্জের ক্যাপ্টেন এম মুনসুর আলী স্টেশনে ঢাকা থেকে আসা আন্ত নগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ট্রেনটি পাবনার ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন পার হওয়ার সময় ছাত্রীটি ট্রেনের টয়লেটে যায়। টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় মমিনুল জোর করে ধাক্কা দিয়ে ছাত্রীটিকে টয়লেটে ঢুকিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বেশ কিছুক্ষণ পার হলেও ছাত্রীটি সিটে ফিরে না আসায় তার খালা গিয়ে টয়লেটের দরজায় ধাক্কা দিয়ে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু দরজা না খোলায় তিনি অন্য যাত্রীদের ডাকেন। তারা অনেক চেষ্টা করেও দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়। এর পর দরজা খুলে দেয়। যাত্রীরা মমিনুলকে আটক করে মারধর করে। খবর পেয়ে ট্রেনে কর্তব্যরত এসআই উজ্জ্বল হোসেন মমিনুলকে যাত্রীদের কাছ থেকে উদ্ধার করেন। ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে থামার পর তাঁকে রেলওয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এসআই উজ্জ্বলের রবাতে ঈশ্বরদী জিআরপি থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, মমিনুল ঢাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করে এবং এক সন্তানের জনক। সে নিজ বাড়িতে ফিরতে ট্রেনে উঠেছিল।

গোপালগঞ্জ : মুকসুদপুরে গত বুধবার ধর্ষণে অভিযুক্ত মাদরাসাছাত্র শিশুটিকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তার বাড়ি উপজেলার একটি গ্রামে। আর একই গ্রামের ‘নির্যাতিত’ শিশুটি মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশা জানান, গত বুধবার সকালে চার বছরের শিশুটি বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। তখন বাইসাইকেলে চড়ানোর লোভ দেখিয়ে মাদরাসাছাত্রটি শিশুটিকে একটি ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির চিৎকারে তার মা ও এলাকাবাসী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার না পেয়ে বৃহস্পতিবার মুকসুদপুর থানায় মামলা করেন।

সাভার (ঢাকা) : বৃহস্পতিবার রাতে সাভার উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় এক শিশুকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে সাদ্দাম হোসেন (২৫) নামের এক যুবক। সে শ্যামপুর এলাকার কুতুবউদ্দিনের ছেলে।

থানায় লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, শিশুটি রাতে তাদের বাসার পাশে একটি ভবনের নিচে বসে ছিল। হঠাৎ সাদ্দাম সেখানে এসে শিশুটিকে জোর করে ভবনটির দোতলায় নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সাদ্দামকে আটক করে। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *