এক বছরেও প্রতিশ্রুতি রাখেনি ব্যাংকগুলো

অর্থনীতি

প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা। এর বিনিময়ে তাঁরা বেশ কিছু সুবিধা নিলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি দীর্ঘ এক বছরেও। এমনই বাস্তবতায় আগামীকাল রবিবার বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে এটাই হবে মুস্তফা কামালের প্রথম বৈঠক। বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে নয়-ছয় সুদ হার বাস্তবায়নে কঠোর নির্দেশনা আসতে পারে। তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন ও খেলাপি ঋণ হ্রাসে ঋণ আদায় জোরদারসহ বিশেষ পুনঃ তফসিল নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে বৈঠকে কঠোর বার্তা দেবেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামও অংশ নেবেন। বৈঠকের বিষয়টি গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বৈঠকে ব্যাংক ঋণের নয়-ছয় সুদ ইস্যুটি গুরুত্ব পেতে পারে। কারণ ব্যাংকের মালিকরাই এটা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হতে পারেন।

বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এর বিপরীতে বেশ কয়েকটি সুবিধা নেন। এগুলো হলো—নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) কমানো, রেপো রেট কমানো ও মেয়াদ বৃদ্ধি, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা এবং মুনাফার ওপর কর কমানো। এরপর গত বছরের জুলাই থেকে তাঁরা ঋণে সর্বোচ্চ ৯ ও আমানতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ (নয়-ছয়) সুদ হার কার্যকরের ঘোষণা দেন। কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের সুদহার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কমেনি, যা দুঃখজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জুন মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি ও বিদেশি মিলে ৪২টি ব্যাংক ঋণের এক অঙ্ক সুদহার কার্যকর করেনি। অনেক ব্যাংকের ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার এখনো ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। জুন মাসে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে ২৭টি ব্যাংকের সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ। আর চলতি মূলধন ঋণের ক্ষেত্রে ২৮টি ব্যাংকের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা ছিল সাড়ে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। এর বাইরে ক্ষুদ্র শিল্পে মেয়াদি ও চলতি মূলধন ঋণ, ট্রেড ফাইন্যান্স ইত্যাদি খাতেও ঋণের সুদহার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কমেনি।

গত মাসের শেষ দিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুষ্ঠিত বৈঠকেও নয়-ছয় সুদহার কার্যকর করার নির্দেশ দেন গভর্নর ফজলে কবির। তবে ওই বৈঠকে ব্যাংকগুলোর এমডিরা জানান, ৬ শতাংশ সুদে আমানত না পেলে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারণে গ্রাহক পর্যায়ে ৬ শতাংশ সুদে আমানত মিলছে না। এমনকি সরকারি সংস্থার আমানতও এই হারে পাওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *