এইচআইভি রুখবে নীল রঙের এই বড়ি

স্বাস্থ্য

হিউম্যান ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) হলো মানব দেহে রোগ প্রতিরোধ প্রতিরক্ষা অভাব সৃষ্টিকারী ভাইরাস। এটি লেন্টিভাইরাস গোত্রের এক ধরনের ভাইরাস যার সংক্রমণে মানবদেহে এইডস রোগের সৃষ্টি হয়। এইচআইভি সংক্রামণের বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটে অবাধ যৌনমিলনের কারণে। আর এই সমস্যা সমাধানে বর্তামানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এক ধরনের ওষুধ।

বাজারে নীল রঙের এক ধরনের ওষুধ কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত কার্যকর। এটি হাজার হাজার মানুষের উপকার করে। এটি আপনার প্রেমিক মনকে অবাধ যৌন সুখ এনে দিতে পারে। কি ভাবছেন? ভায়াগ্রা? না, এটি ভায়াগ্রা নয়। এটির নাম ট্রুভাডা। এটি এক ধরনের বিশেষ ওষুধ যা এইচআইভি রোগে আক্রান্ত হওয়ার চিন্তাকে দূরে সড়িয়ে নিরাপদ যৌনমিলনে সহায়তা করবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ওই ওষুধের নাম প্রি এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (প্রিইপি)। এটি এইচআইভির সংক্রমণ রোধে ৯৯ শতাংশ কার্যকর। প্রিইপি এতোই ভালো যে এটি অস্ট্রেলিয়ায় নতুনভাবে এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় রোধ করেছে। সেই সঙ্গে এটি নিউইয়র্কেও এইচআইভি সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করছে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার চিকিত্সক এবং নীতি নির্ধারকরা ওষুধের বাজারজাতকরণকে প্রসারিত করতে কাজ করছেন। ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন মতো যাতে ওই ওষুধ পেতে পারেন তার জন্যও কাজ করেছেন তারা।

এইচআইভির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগের কেন্দ্রের সিনিয়র মেডিক্যাল উপদেষ্টা জন ব্রুকস জানান, ওই ওষুধটি যাতে গ্রাহকরা পেতে পারেন তার জন্য আমরা কাজ করছি।

অবাধে যৌনমিলনে যারা এইচআইভি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চান তাদেরকে ওই ওষুধটি ব্যবহার করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই ওষুধটি যে কেউ (নারী-পুরুষ) ব্যবহার করতে পারবেন। বলা হচ্ছে, যৌন মিলন করতে যাওয়ার আগে দিনে একবার ওই ওষুধটি সেবন করতে। তাহলেই এইচআইভির সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তবে এটির নতুন ডোজিং পদ্ধতি উদ্ভূত হচ্ছে। তার মধ্যে একটি পদ্ধতি হলো অন-ডিমান্ড মডেল। এটাকে বলা হচ্ছে, টু প্লাস ওয়ান প্লাস ওয়ান। এই পদ্ধতিতে যৌন মিলন করতে যাওয়ার আগে একজন ব্যক্তির ২৪ ঘণ্টায় দু’টি বড়ি খেতে হতো এবং দু’দিন পর পর একটি বড়ি খেতে হতো।

চলতি মাসের শুরুতেই আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনে একটি গবেষণাপ্রত্র উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, যারা ওই ওষুধের অন-ডিমান্ড মডেলটি অনুসরণ করেছেন তাদের প্রায় সবাই এইচআইভি থেকে রেহাই পেয়েছেন। গত দু’বছরে তিন হাজার ব্যবহারকারীর মধ্যে মাত্র দু’জন রেহাই পাননি।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই পদ্ধতিটি নিজেদের নির্দেশিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে তাদের নির্দেশিকা সংশোধন করেছে।

সূত্র: ওয়্যার্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *