উপবন দুর্ঘটনা, উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট

জেলা খবর

সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশন সংলগ্ন বড়ছড়া এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়া আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেসের উদ্ধারকাজ শেষ পর্যায়ে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করছে। রিলিফ ট্রেন শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত একটি বগি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

গতকাল রবিবার দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটে উপজেলার বরমচাল লেভেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ারসার্ভিসের সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন ফায়ারসার্ভিসের ১১টি ইউনিটের ৫৪ জন লোক উদ্ধার কাজ করতেছে। ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সিলেটের বিভিন্ন স্টেশনের ১১টি ইউনিটের ৫৪ জন লোক ও ৫টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ১৬টি বগির ট্রেনের ছয়টিবগি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এরমধ্যে শেষ বগি খালে, ৩টি লাইনচ্যুত ও ২টি আংশিক লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্য তিনটি বগি পুরোপুরি উল্টে যায়।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে আমরা ৪টি মরদেহ ও আহত ২৭ জনকে উদ্ধার করেছি। নিহতের মধ্যে তিন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। লাশগুলো উদ্ধার করে কুলাউড়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানানো সম্ভব হচ্ছে না। উদ্ধার কাজ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি ফায়ার সার্ভিসের লোকদের উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন।

মৌলভীবাজার সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁরা আশংকামুক্ত।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে রেলওয়ের লোকজন আসে। তবে রাত পৌনে ৪টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি রেলের উদ্ধারকারী দল। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রেলের বগিগুলো উদ্ধার কাজ শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত একটি বগি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রেললাইন স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এবং সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে আহত যাত্রীদের। দুর্ঘটনায় আহত ১৭ জনকে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেস্কে নেওয়া হয়। সেখানে সাত জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আব্দুল বারীর স্ত্রী রয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে কালা মিয়া বাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যাত্রীরা বলছেন, একটি সেতুর সংস্কারকাজের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট হওয়ায় রেলপথে বহু যাত্রী যাতায়াত করছিলেন। ফলে ট্রেনটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি লোড টানছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *