অনাহারে প্রাণ হারাতে বসেছে খাঁচাবন্দি পশুপাখি

পরিবেশ
করোনাভাইরাসের মরণ ছোঁবলে যেখানে থমকে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা, সেখানে বেঁচে থেকেও অনাহারে প্রাণের স্পন্দন হারাতে বসেছে পশুপাখিরাও।

অঘোষিত লকডাউনে বন্ধ দোকানের খাঁচায় বন্দী পশুপাখি তাদের মালিকদের মতোই স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে এখন প্রহর গুনছে।

ওরা আজন্ম লকডাউন। জন্ম খাঁচায়, বেড়ে ওঠে লাইট ফ্যান আর এসির বাতাসে। খায় প্যাকেটের খাবার। ম্যানহাটনের পশু মার্কেট হোক বা ঢাকার কাটাবন। এক খাচা থেকে অন্য খাচা অথবা খাঁচা থেকে গলায় শিকল পড়ে কোন আলিশান বাসার বারান্দা কিংবা ড্রয়িংরুমেই শেষ হয় এসব পশু পাখিদের জীবন।

শেকলবন্দী থাকলেও ওদের আদর যত্নের অভাব হয় কমই। পশু প্রেম অথবা ব্যবসার খাতিরে এই প্রাণীদের যত্নেই রাখেন কাটাবনের ব্যবসায়ীরা। তবে করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে অঘোষিত লক ডাউন গোটা ঢাকা শহর। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে কাটাবন মার্কেটও। গেলো কয়েকদিন ঘরবন্দী এসব পশু পাখি। আলো বাতাস আর খাবারের অভাবে জীবন শঙ্কটে দোকানে আবদ্ধ থাকা প্রাণীরা।

খাঁচায়বন্দী এই সব পশু পাখির খাবার দিতে দিনে আন্তত দুই বেলা দোকান খুলতে হয় মালিকদের। দোকান খুললেই আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসা নয় পশু পাখিগুলোকে বাচিয়ে রাখার জন্যই আরো বেশী কিছু সময়ের জন্য হলেও মার্কেট খোলা রাখাটা জরুরি বলছেন দোকান মালিকরা।

কাটাবনের সারি সারি আলো ঝলমলে দোকানের খাঁচায়বন্দী পশু পাখিদের দেখে যাদের অভ্যাস তারা অনেকেই হয়তো জানেনই না এখানে চার পাঁচটা পঙ্গু কুকুরকে নিজের সন্তানের আদরে লালনপালন করছেন ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন।

পশু প্রেমকে রুটিরুজি বানিয়ে নেওয়া এই মানুষগুলো চান বেঁচে থাক তাদের ভালোবাসা। বেঁচে থাক বোবা প্রানীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *